ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে তরুণ প্রজন্ম: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে তরুণ প্রজন্ম: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
×
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৮

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘ইয়ুথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি: শেপিং দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে এ বক্তৃতা দেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আগে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত সশস্ত্র বাহিনীর ওপর থাকলেও বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এখন তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, প্রথম ভিত্তি হলো সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের সম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে বাহিনীর সদস্য, সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি। দ্বিতীয় ভিত্তি হলো জনগণের ইচ্ছাশক্তি, প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা ও সামাজিক সংহতি। তৃতীয় ভিত্তির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, কূটনীতি, তথ্য, সাইবার ক্ষেত্র, রাজনীতি, ভৌগোলিক অবস্থান ও জাতীয় চেতনা।

ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, এই তিনটি ক্ষেত্রের কেন্দ্রেই রয়েছে তরুণ প্রজন্মের শক্তি।

বাংলাদেশের মতো দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য তিনটি সম্ভাব্য কৌশলের কথা উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এগুলো হলো প্রচলিত সামরিক সক্ষমতায় সমতা অর্জন, কৌশলগত জোট গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।

বক্তৃতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সুপারিশের ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ক্যাম্পাসে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশনস প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)-ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

গত বছর বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এসআইসিআইপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার কথা রয়েছে।

এই কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ওষুধশিল্প খাতে মোট ১ হাজার ৬১৫ জন পেশাজীবী ও স্নাতককে উন্নত কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এসআইসিআইপি বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবনের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পটি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এসআইসিআইপির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও সেবা খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, অফিস অব কমিউনিকেশন্সের পরিচালক খায়রুল বাশার, স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক আফসানা আখতার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×