ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদে হুতিদের হামলা

সৌদিগামী ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ

সৌদিগামী ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ
×
×

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সৌদিপ্রবাসী কর্মীরা। গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তোলা। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৭

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিটের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের পাঁচ হাজার ৪১৮ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ওমরাহ যাত্রী ছাড়াও ছুটি শেষে সৌদি আরবে কর্মস্থলমুখী প্রবাসীও আছেন।

গতকাল সোমবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরে আসে নারীসহ ১৯ জনের একটি দল। ভারতের মুম্বাই হয়ে তাদের জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইট বিকেল ৪টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়। এতে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বিকেল ৫টা ৫১ মিনিটে বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে কথা হয় ওই দলের নেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, পাবনা সদর এলাকা থেকে নারীসহ ১৯ জনের দলটি দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাজধানীর আবাবিল নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন তারা। টার্মিনালে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে গেলে কর্মীরা তাদের ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানান।

সৌদি আরবের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিতে কিশোরগঞ্জ থেকে বিমানবন্দরে এসেছিলেন মতিয়ার রহমান নামের এক যাত্রী। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাঁর সে দেশে ফেরার কথা ছিল। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি জানান, দুই মাসের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার কথা। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান।

মতিয়ার রহমান বলেন, ভিসার মেয়াদ আর মাত্র পাঁচ দিন আছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

বিমানবন্দরে বিভিন্ন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু ইন্ডিগো নয়; আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান অনেকে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ফ্লাইট বাতিলের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত শনিবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারলাইন্সের তিনটি– মোট ১২টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।

এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি ও ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি– মোট ৩৯টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হন।

রিয়াদগামী বিমানের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এর আগে সকালে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

হতাহত বাংলাদেশিদের পরিচয় মিলেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন। এর মধ্যে তিনজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। 

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দরটিতে আটকা পড়েছেন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী। হতাহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুজন হলেন মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়েছিলেন।

শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম, মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে স্যানিটারির (প্লাম্বার) কাজ করতেন। দেশটিতে তাঁর বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা ইকামা ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর গ্রামে ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ, মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের পর তিনি রিয়াদ যান। সেখান থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ জন আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বাকি ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি। তারা হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক। হাসানের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক, মা কমলা বেগম। কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া, মা শিউলি বেগম। হাসান ও নুরুল্লাহ ওমরাহ পালনের জন্য গিয়েছিলেন। জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিট ফ্লাইটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তারা। ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত। তিনি জেদ্দায় কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে ছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তিনজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। বাবা মো. মোখলেসার রহমান, মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মহিব উল্লাহ, মা রোকেয়া বেগম। দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যান। জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তারা।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সৌরভের বাড়ি রাজধানীর লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবদুল হাই, মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবা মো. আবুল ফজল, মা তাজকেরা বেগম। দুজনই ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহর বাড়ি ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগরে। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ, মা ফজিলাতুন নেসা। তিনিও ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন আরমান হোসেন ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক। আরমানের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগরে। তাঁর বাবা মো. মজিবুল হক, মা শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর ইকামা ছিল।

কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। 

এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত। জামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার নামে এক বাংলাদেশির বিস্তারিত পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় চিকিৎসাধীন আছেন উমায়ের নামে এক বাংলাদেশি।

ছোট্ট তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীর লাশের অপেক্ষা

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, নিহত নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবরে তাঁর স্ত্রী মাহবুবা আক্তার ছোট তিন সন্তান নিয়ে রোববার রাতেই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বদরপুরে যান।

গতকাল সোমবার বদরপুরে নাসরুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মাহবুবা।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাসরুল্লাহর তিন সন্তানের মধ্যে জামিল আহমেদ (৭) দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। নাবিলা আক্তার (৫) এবার প্লেতে ভর্তি হয়েছে। ছোট ছেলে আহমাদুল্লাহ জাওয়াদের বয়স মাত্র ৩।

মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘তিন সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব? কীভাবে তাদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করব? খুব চিন্তা হচ্ছে। তবে এখন শুধু স্বামীর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আশা করি, সৌদি ও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সহায়তা করবে।’

সরকারের সহায়তা চায় দাউদের পরিবার

রিয়াদে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দাউদ উল ইসলামের (২৭) বাড়ি নাঙ্গলকোটের বদরপুরে। তিনি নিহত নাসরুল্লাহর চাচাতো ভাই। তাঁর সুস্থতা নিয়ে পরিবার চিন্তায় পড়েছে। এ জন্য তারা সরকারের সহায়তা চেয়েছে।

দাউদের ভাতিজা মো. জুনায়েদ সমকালকে জানান, তাঁর চাচা (দাউদ) কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। চার-পাঁচ মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

জুনায়েদ বলেন, ‘তাঁর চাচা কপাল ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তাঁর পায়ে অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্থতায় সরকারের সহায়তা ও দেশবাসীর দোয়া চাই আমরা।’

নাঙ্গলকোটের ইউএনও আবু রায়হান সমকালকে বলেন, ‘হতাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছি। নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।’

সতর্ক থাকার পরামর্শ দূতাবাসের

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল এক ‘অতি জরুরি’ বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। চলমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ধারণ, সংরক্ষণ, আদান-প্রদান কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। সৌদি আইনে এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের শ্রম-সংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর ৮০০১০০০১২৫, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত নম্বর ৮০০১০০০১২৬ এবং কূটনৈতিক শাখার নম্বর ৮০০১০০০১২৪-এ যোগাযোগ করা যাবে। মৃত্যু-সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগের নম্বর +৯৬৬৫৭০২১২১৮০।

হেফাজতের শোক

এদিকে, হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিনশর বেশি যাত্রী ও বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় সংগঠনটির আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান এ শোক প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

×