ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের
×
×

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত সেমিনারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:০৭

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প শুরু হলেও ধাপে ধাপে দেশের ৫০০টি উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকল্যাণের সোপান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ পরিকল্পনার কথা বলেন।

আঁচল ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি), লিডোসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সাইদুর রহমান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ-সংঘাত, দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাপন, একাকীত্ব এবং অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা এ সংকটের বড় শিকার।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগে মানুষকে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত মনে হলেও বাস্তবে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প মানেই বড় বড় ভবন নির্মাণ ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা নয়। সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করে অবকাঠামো নির্মাণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবাকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প সাজানো হয়েছে। তবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি। 

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কাটাতে দুই বা তিন বছর মেয়াদি ভোকেশনাল ডিপ্লোমা ও কারিগরি কোর্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য সবাইকে ঢাকাকেন্দ্রিক মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রির দিকে ঠেলে দিলে তাঁদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার আগ্রহ কম থাকতে পারে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার আদলে মানসিক স্বাস্থ্য খাতেও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরির ব্যবস্থা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) কাঠামোর আওতায় মধ্যম সারির একটি ‘মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কফোর্স’ গড়ে তুলতে হবে। এসব কর্মী উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের পাশে থেকে কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দিতে পারবেন।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. মুহিত। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়েরও সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং সামাজিক কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর করার ওপরও জোর দেন তিনি। এ জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×