কারিগরি ৮০ প্রতিষ্ঠানে বেতন বকেয়া, ভোগান্তি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সংসার চালাতে করেছেন ঋণ। তবে ১০ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সেই ঋণ শোধ করতে পারছেন না সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রঘুনিলি মঙ্গলবাড়িয়া বিজ্ঞান কারিগরি ও কৃষি প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের দপ্তরি শামসুল ইসলাম। বেতন না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের আরও ১৩ শিক্ষক-কর্মচারী। গত জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা এখনও পাননি তারা।
শুধু এই কলেজ নয়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের অন্তত ৮০ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এক বা একাধিক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের ১০ মাসের বেতন আটকে আছে। বকেয়া বেতন কবে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র জানায়, তাড়াশের ওই কলেজের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার বিল ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দাখিলের সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বিল জমা দিতে পারেনি। এর পর থেকে বেতন ছাড়ের জন্য বারবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
বেতনের নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না কেউ
তারাশের রঘুনিলি মঙ্গলবাড়িয়া বিজ্ঞান কারিগরি ও কৃষি প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের দপ্তরি শামসুল ইসলাম বলেন, বেতন না পাওয়ায় তাঁকে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে। ভেবেছিলেন, বেতন পেলেই ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু ১০ মাস পার হলেও সেই টাকা পাননি। ঋণও শোধ করতে পারছেন না।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, অধ্যক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কয়েকবার বকেয়া বেতনের বিষয়ে খোঁজ নিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে গেছেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি। বেতন পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না কেউ।
অধ্যক্ষ আবু তালেব জানান, বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের জন্য তিনি কমপক্ষে ১০ বার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে গেছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
সংশ্লিষ্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংযুক্ত কর্মকর্তা (এমপিও শাখা) জিহাদ হাসান ভূঁইয়া বলেন, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
- বিষয় :
- বেতন বন্ধ