ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সংসদে যেতে জামায়াতের সহায়তা চান হিন্দু নেতারা

সংসদে যেতে জামায়াতের সহায়তা চান হিন্দু নেতারা
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৪৯

জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব দাবি করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। এ পদ্ধতি নির্ধারণের সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে উদ্যোগ নিতে বলেছেন তারা।

বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াত আমিরের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানিয়েছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। মন্দির রক্ষায় জামায়াত কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এই সভা হয়। 

সভার পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আমন্ত্রিত নেতারা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা, তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কথা বলা সরকারেরও যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, তা তিনি বলেছেন। 

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টের কথা জানিয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছেন। জামায়াত তাদের আশ্বস্ত করেছে, সরকার এবং বিরোধী দল সেসব সমস্যার সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থাকবে। 

পূজা উপদাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। আমি বলেছি, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা ২৯ শতাংশ থেকে আটে নেমে এসেছি। এইটার সঙ্গে এটা মিলছে না।’ যাতে ভবিষ্যতে এই সত্যিকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলতে পারি, সেটা যেন নিশ্চিত করা হয়। যে সমস্যাগুলো আমরা তুলে ধরেছি, এটা সরকার ও বিরোধী দল মিলে সমাধান করতে হবে।

সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নেই জানিয়ে বাসুদেব বলেন, ‘সংসদে আমাদের কেউ নেই। আমরা সংসদে আসতে চাই। কীভাবে আসব, তা বিরোধী দল এবং সরকারি দল মিলে ঠিক করবেন। এই কথাগুলো আলোচনার মধ্যে এসেছে।’

জামায়াতকে ধন্যবাদ দিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, মতবিনিময়ের মাধ্যমে যে শুভ সূচনা হল, আগামী দিনে বাংলাদেশের সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা যেন দলমত নির্বিশেষে একসাথে কাজ করতে পারি। সেটাই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির।

সভায় অংশ নেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনুবন্ধু রায়, মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, পূজা উপদাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অর্পনা রায়, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাশ ব্রহ্মচারী, ঋষি পঞ্চায়েত ফোরামের সভাপতি রামানন্দ দাস, সাধারণ সম্পাদক রাজ কুমার দাস, সনাতন পার্টির সভাপতি আশিষ রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায় প্রমুখ। 

দলিত সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন সভায়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রবিদাস ফোরামের সভাপতি চাঁদমোহন রবিদাস, সাধারণ সম্পাদক শিপন রবিদাস প্রাণকৃষ্ণ, রবিদাস উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি দিলীপ রবিদাস, সাধারণ সম্পাদক ফুল চাঁদ রবিদাস প্রমুখ।  

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং ছিলেন সভায়। এছাড়াও হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল, সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দেসহ অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন

×