ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন

দেশের কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
×
×

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি-সংগৃহীত

বাসস

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৫৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যায়। তাই দেশের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা ও খাদ্য ঘাটতি অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। 
উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে কৃষিবিজ্ঞানীদের অবদান এ সাফল্যের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ধান রোপণ, কর্তন ও আগাছা দমনে বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিকাজে পরিবর্তন এনেছে।

এ সময় রাষ্ট্রপতি কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ধান বিক্রি করে কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। ফলে ধান চাষে তাদের আগ্রহ কমছে এবং তারা বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য কৃষকদের ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধান গবেষণায় বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও ধান গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিবিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিবিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি উপযুক্ত বেতন কাঠামো ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

চাকরি শেষে বিজ্ঞানীদের পেনশন না পাওয়ার বিষয়কে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন  এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি গবেষণা ও উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হয়। তাই তাদের উৎসাহিত এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের এমপি মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

‘খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রির অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময়ে কৃষিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ব্রির মহাপরিচালক বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×