জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য চাষের লক্ষ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান
‘দক্ষিণ এশিয়ায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ফটো রিলিজ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে মৎস্য ও জলজ চাষ খাতকে টেকসই করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলেছেন তারা।
গতকাল শনিবার কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিশুক) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মশালায় সার্কভুক্ত বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রায় ৫০ জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। তারা বন্যা, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার অনুপ্রবেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব। তিনি জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি মৎস্য ও জলজ চাষে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে দেশভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
শিশুকের নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোরশেদ টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষের উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মৎস্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভূমিকা তুলে ধরেন।
সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক ও সার্ক মহাসচিবের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তরফদার দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি শবনম শিবাকোটি মৎস্য ও জলজ চাষে জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়াতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই জলজ চাষ পদ্ধতি গড়ে তোলা এবং জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
- বিষয় :
- জলবায়ু পরিবর্তন