ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকসেবীদের ধাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অস্ত্র হাতে মাদকসেবীদের ধাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
×
×

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২৩ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৬

প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে মাদকসেবীদের ধাওয়া এবং আইন ভেঙে গুলি ছোড়ার ভয় দেখানোর ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন ইশরাক।

আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সেখানে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসলে হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।’ 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। এর ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার নামে পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষায় ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। যার ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবলসংকট দূরীকরণ এবং মাদকের আস্তানা সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল উক্ত এলাকায় যান।

এতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। এমন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিবৃতি

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই অপরাধের সঙ্গে হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে। বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।’ 

বিবৃতিতে গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী ।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×