ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার কাছে জ্বালানি হাব গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

খুলনার কাছে জ্বালানি হাব গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
×
×

‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৫৪

গ্যাস সংকট কাটাতে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি খুলনার কাছে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফোরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাসের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করা হচ্ছে। ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও কর ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্যানেলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট মোকাবিলা করছে বর্তমান সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নীতি নির্ধারণে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য পৃথক ইকুইটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে সরকার।

একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনা সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×