৭০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনছে সরকার
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১০
কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে মোট ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর সৌদি আরবের সাবিক থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। দুটি প্রস্তাবের ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাজেট থেকে মেটানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টন। এর মধ্যে কাফকো থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন সার কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাফকো থেকে ইউরিয়া সার কেনার জন্য সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিসিআইসি। চুক্তি অনুযায়ী, এ অর্থবছরে কাফকো থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি লটে কেনা হবে ৩০ হাজার টন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার জন্য কাফকোর কাছে মূল্য প্রস্তাব চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি মূল্য প্রস্তাব পাঠানোর পর চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাম পর্যালোচনা করা হয়।
এতে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার। ৩০ হাজার টন সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
সাবিক থেকে আসবে ৪০ হাজার টন
অন্যদিকে, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮ম লটে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৪৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।
৪০ হাজার টন সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ চালানে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সার আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে।
পিপিপিতে আধুনিকায়ন হচ্ছে কোকিল টেক্সটাইল মিল
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।