লক্ষ্মীপুরে বাড়ি থেকে ডেকে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে খোরশেদ আলম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হত্যা করেছে। এদিকে যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে এবং মৌলভীবাজারে তুচ্ছ বিষয়ে দর্জিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলায় নিহত খোরশেদ আলম দিলসাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি মাটির ব্যবসা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খোরশেদকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন– একই গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম ও মাসুদ রানা।
খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, গতকাল দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুই ব্যক্তি খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে গুলির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ওয়ালিদ নামে এক ব্যক্তি খোরশেদকে গুলি করেছেন। মাটির ব্যবসা নিয়ে ওয়ালিদ এর আগেও খোরশেদকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে গুলির লাগার দুটি চিহ্ন দেখা গেছে।
সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
যুবককে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের ঝিকরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আশিকুর রহমান আশিক (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সোনাকুড় গ্রামের দোয়ালীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশিকুর রহমান সোনাকুড় গ্রামের আসিরুদ্দিনের ছেলে।
ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, আশিকুর ও তাঁর চাচাতো ভাই ফজলুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ফজলুর রহমান তাঁর সহযোগী নজরুল, মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন আশিকুরকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং শাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে ফজলুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
দর্জিকে পিটিয়ে খুন
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আলিফ উদ্দিন নামে এক দর্জিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার শাহবাজপুর বাজারের সায়পুর রেলক্রসিংয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আলিফ উপজেলার আতুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলিফের দোকানের পাশেই বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন সায়পুর গ্রামের ইমাম উদ্দিন। আলিফের কাছে তাঁর ৯০ টাকা পাওনা ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ইমাম টাকা চাইলে তিনি তা পরিশোধও করে দেন। কিন্তু দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রড দিয়ে আলিফের ওপর হামলা চালান ইমাম। রডের আঘাতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান জানান, হত্যায় জড়িত ব্যক্তিকে আটকে অভিযান চলছে।
রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নেজাম উদ্দিন (৫০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখিল গ্রামের কালিছড়ি সেতু এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর দুটি হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাশে পড়ে ছিল।
নেজাম উদ্দিন মীরেরখিল স্লুইসগেট এলাকার রফু মিয়ার ছেলে। কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মীরেরখিল কালিছড়ি সেতু-সংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশে নেজামের ধানক্ষেত রয়েছে। বন্যহাতির আক্রমণ থেকে সেই ক্ষেত রক্ষায় পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। গতকাল সকালে তিনি বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ধানক্ষেতের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি পিচঢালা সড়কের মাঝখানে নেজামের রক্তাক্ত মরদেহ পান তারা। পাশে তাঁর বিচ্ছিন্ন দুটি হাত পড়ে ছিল।
নেজামের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ কৃষক ও দিনমজুর। তাঁকে কে, কেন, কী কারণে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন জানান, নেজামের দুই হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলায় দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
(সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- হত্যা