জুডিশিয়ারির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআই: আইনমন্ত্রী
ছবি: বাসস
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৯
ই-জুডিশিয়ারি চালু করতে হলে সবক্ষেত্রেই জুডিসিয়াল পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের জুডিশিয়ারির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এআই দিয়ে রায় লিখতে গেলে বা সাক্ষ্য নিতে গেলে ন্যায়বিচার পরাভূত হওয়া আশঙ্কা থাকবে।
তিনি বলেন, এআই এমনভাবে মানুষের কণ্ঠকে কপি করতে পারবে যা আগামী দিনে বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এআইকে মোকাবিলা করতে গেলে বিচারকদের জুডিশিয়াল সেক্টরে আরও পারদর্শী ও সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের কনফারেন্স রুমে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিচার প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ন্যায়বিচারে সহজগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালত উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে ই-পারিবারিক আদালত করা উদ্বোধন করা হয়েছে। সেটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা ই-বেইল বন্ড চালু করেছি। যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের একটি আইন আছে ডিজিটালি সাক্ষী ও ডিজিটালি হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে হচ্ছে। এর পেছনে যানবাহনসহ বিপুল নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল এ ব্যবস্থা করেছেন। আমরা এরকম চালু করতে পারলে আরেকটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারব। আমরা বিচার বিভাগকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় আনতে চাই। মানুষ যাতে মনে না করে বিচারকরা ন্যায়বিচার করছেন না বা তারা বিচারে পারদর্শী না।
দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখের বেশি তথ্য দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রায় ২৩০০ বিচারকের পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। এতে বিচারকদের ওপর অমানবিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত মহানগরগুলোতে মামলার চাপ আরও বেশি। সেক্ষেত্রে এখানে যারা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন আমরা বাছাই করে তাদের এসব জায়গায় পদায়ন করতে চাই।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো কর্মকর্তা সকাল ১১টার দিকে কাজে এসে দুপুর ২টা বা ৩টার মধ্যে চলে যান এমন প্রতিবেদন আমাদের কাছে আছে। এ ধরনের আয়েশি কর্মপদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আয়েশি জজ যদি কেউ থাকেন আপনাকে এমন জায়গায় দেওয়া হবে যেখানে আপনারা আয়েশ করে চাকুরিটা করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।