ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার ঘটনায় নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধার ঘটনায় নাগরিক সমাজের উদ্বেগ
×
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৫

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেছেন, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীত ভূমিকার কারণে তার জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিকেরা এ দাবি জানান। বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

বিবৃতিতে নাগরিক সমাজ বলেছে, গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে আনুমানিক রাত দুইটার পর মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মুঠোফোনের আলোয় আবার কবর খনন করেন। মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাফনে বাধা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাগরিকেরা বলেন, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার মরদেহ যথাযথ মর্যাদায় দাফন করার অধিকার মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, এমনকি রাষ্ট্রও এ অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নির্ধারণের এখতিয়ার রাষ্ট্রের। প্রয়োজনে রাষ্ট্র এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব রাখে না।

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, দলটির নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধের দায় স্বীকার কিংবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নাগরিকেরা বলেন, মানিক পশারীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীত ভূমিকার কারণে তাঁর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদায় সৎকার করা ইসলামসহ সব ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সেই শিক্ষাকে উপেক্ষা করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, তানজীমউদ্দিন খান, জোবাইদা নাসরীন ও রোবায়েত ফেরদৌস, লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও তবারক হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) নির্বাহী পরিচালক সালমা আলীসহ ২৮ জন বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

আরও পড়ুন

×