শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ তাহসিফ হত্যার কারণ হতে পারে: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৫৪
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে সাতদিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।
এদিন রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার’ কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি দ্বীপ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও শরীরে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে দ্বীপকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। পরে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে ফেলা হয়। এরপর শুনানি শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও করেছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়। এ কারণে ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে। সে তথ্য উদঘাটনের জন্য, এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানান জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।
দ্বীপের পক্ষে দুই আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। প্রথমে মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের সঙ্গে আসামির পারিবারিকভাবে ৬ বছরের সম্পর্ক। ভিকটিমের বাবা কিন্তু একবারও বলেননি আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর ভিকটিম বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। রাত ২টার দিকে তিনি কেন মাদক আস্তানায় যাবেন, তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, আসামি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। আমরাও চাই সত্য উদঘাটন হোক। আসামি কিন্তু প্রথম থেকে সহযোগিতা করে আসছেন। এটা হত্যা না আত্মহত্যা, সন্দেহ হয়। আর ভিকটিমের শরীরে কিন্তু কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। তার পরিবার কিন্তু মামলা করতে চায়নি। আমরাও সত্য উদঘাটনের পক্ষে। এ কারণে জামিন আবেদন করিনি।
এরপর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি জড়িত থাকলে কিন্তু বাসায় থাকতেন না। প্রথম থেকে কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরাও চাই প্রকৃত রহস্য উঠে আনুক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দ্বীপকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, দ্বীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানো ও যৌথ দায়বদ্ধতা অভিযোগ আনা হয়েছে দণ্ডবিধির ২০৩, ২০১ ও ৩৪ ধারায়। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ভিডিওটা আপনারা দেখেছেন…শেখ হাসিনা পালিয়ে যাচ্ছেন, এই যে ভিডিওটা হয়েছে, উনি এই ভিডিওটা করেছিলেন এবং সোশাল মিডিয়াতে দিয়েছিলেন। যার কারণে ২০২৪ সালের এ আন্দোলন সফল হয়েছিল, এ কারণে হয়তো, আজকের এই ভিকটিমকে মারার পরিকল্পনা হয়েছে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এদিকে রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দ্বীপ এক স্বজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি ফুললি স্ট্রং। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার কথা বলেন দ্বীপ।
এর আগে দ্বীপকে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরদিন শুক্রবার রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
- বিষয় :
- বিমান বাহিনী
- মরদেহ উদ্ধার
- রিমান্ড
- আদালত
- শেখ হাসিনা