পোশাক খাতের অস্থিরতায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কিছু শিল্প মালিকও জড়িত বলে দাবি মন্ত্রীর
সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪১ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৮
পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন,‘এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত রয়েছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ ঘটনায় জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’
সোমবার সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্প মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবেন মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিল্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে কেউ সংসদ সদস্য, কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, সেসব শিল্প মালিক এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং এর প্রমাণও রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের আলোচনা চলছে। এমন একটি সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন কেউ কেউ। এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও কিছু শিল্প মালিক এ কর্মকাণ্ডে জড়িত। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা এমন কিছু ব্যক্তিও জড়িত, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের কল্যাণ চান কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং এর ফলে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার
বৈঠকে শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু শিল্প মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এমন কারখানা ও মালিকদের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, কোনো শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। তবে ভুলক্রমে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়ে থাকলে কিংবা জড়িত থাকলে তাঁদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।
শিল্প কারখানা বন্ধ চায় না সরকার
পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি সরকারের কাম্য নয়। একইভাবে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।