ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে দেশের ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে দেশের ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ
×
×

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩:১০

গরমে বাসাবাড়িতে ফ্যান চালাতেই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াট। সাধারণ ফ্যানের বদলে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করা গেলে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এতে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, যার আর্থিক মূল্য ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এড়ানো সম্ভব।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত ‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়াতে জাতীয় কর্মসূচি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আইইইএফএর বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম। দেশের ২৬ জেলার ৪৩৫টি পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ বিএলডিসি প্রযুক্তির। এসব ফ্যান চালাতে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। অন্যদিকে সাধারণ ফ্যানে লাগে ৭০ ওয়াট বা তার বেশি। গ্রীষ্মকালে রাত ৯টার দিকে বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে এ সময় বিদ্যুতের চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। এতে বিপিডিবির ওপর চাপও কমবে।

তবে এসব ফ্যানের দাম বেশি হওয়ায় ব্যবহার বাড়ছে না। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ পরিবার জানে না, বাজারে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান পাওয়া যায়। অথচ এসব ফ্যানের সুবিধা জানার পর ৯৬ শতাংশ পরিবার তা ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা। বিপরীতে বিএলডিসি ফ্যান কিনতে খরচ হয় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা।

দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা বা তার কম। এসব পরিবারের গ্রীষ্মকালীন গড় মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৬৬৩ টাকা। আর্থিক সহায়তা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করে ফ্যানের বাড়তি দাম পুষিয়ে নিতে এসব পরিবারের ৭ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৬ বছর লাগতে পারে। তবে বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনা এবং কার্বন ক্রেডিট বিক্রির অর্থ কাজে লাগানো গেলে এ সময় কমে ৪ দশমিক ৮ বছরে আসবে।

এ পরিস্থিতিতে বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমাতে সরকারকে বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইইইএফএ। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধের সুযোগ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্যানের মান নির্ধারণ ও বিদ্যুৎ খরচের তথ্যসংবলিত লেবেলিং ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। এ দায়িত্ব পালন করতে পারে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। পাশাপাশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি জাতীয় কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান (সুপার ইএসসিও) গঠন এবং ফ্যানের মান নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বাড়ানো তেমনই একটি উদ্যোগ। এসব ফ্যান ব্যবহার শুরু হলেই বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকবে।

আরও পড়ুন

×