সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বর্জন শিবির, ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:২১
সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে ছাত্রদল যোগ দিলেও বর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য ছাত্র সংসদের নেতারাও বৈঠক বর্জন করেন। তাদের দাবি সংবিধান সংশোধন নয় গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংশোধন কমিতিতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশ নেয়নি। ১৭ সদস্যের এই কমিটির ১২ সদস্যই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের। বিরোধীদের পাঁচটি পদ খালি রয়েছে। তারা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়। মঙ্গলবার সংসদে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রসংগঠন এবং নেতাদের আমন্ত্রণ করেছিল কমিটি।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানিয়েছে, গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের দেওয়া জনরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকার সংস্কারের পরিবর্তে একদলীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করছে। পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সংবিধান বহাল রাখছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠন না করে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করছে। তাই শিবির বৈঠক বর্জন করেছে।
সংবিধান সংশোধন কমিটিকে প্রহসন আখ্যা দিয়েছে ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই কমিটি গণভোটে গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা। কমিটির গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ ছাত্রশক্তি স্বীকার করে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, তাহলে সংশোধনের কমিটি কোথা থেকে এলো? এই কমিটিতে কারা আছেন, কয়টা বৈঠক হলো, কী প্রস্তাব এলো, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিই গণরায়বিরোধী, তাদের সঙ্গে আলোচনায় সংস্কার হতে পারে না।
ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় তারা সভায় অংশ নেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে। তা উপেক্ষা করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের উপহাসমূলক মতবিনিময় সভা দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাই ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নেয়নি।