মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজন
আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত
রণেশ দাশগুপ্ত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৩:১২
ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া কিংবা ভোগ-বিলাস নয়, মানুষের মুক্তি ও সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই কেটেছে রণেশ দাশগুপ্তের জীবন। সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বারবার কারাবরণ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কিংবা সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে বিপর্যয়–কোনো কিছুই তাঁকে আদর্শের পথ থেকে সরাতে পারেনি।
আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন থাকা এমন এক সংগ্রামী জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে রণেশ দাশগুপ্তের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ আয়োজনে। বুধবার সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের ষষ্ঠ তলায় এ আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গান, আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও মার্কসবাদী এ তাত্ত্বিককে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রণেশ দাশগুপ্তের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনকে কারাবরণের ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশভাগের আগে ও পরে প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে তাঁকে বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। কখনও মুক্তি পেয়েছেন, আবার অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরতে হয়েছে কারাগারে। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে কারাবন্দি অবস্থায়। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সংগ্রামী চেতনাকে দুর্বল করতে পারেনি।
ব্যক্তিগত জীবনের অনেক আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে আদর্শের প্রতি এমন নিষ্ঠা দেখানো বিরল বলেও মন্তব্য করেন তারা।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে রণেশ দাশগুপ্ত তাঁর সমসাময়িকদের প্রভাবিত করেছেন। সততা বজায় রেখে এবং নিজস্ব আদর্শে স্থির থেকে কীভাবে সমাজ পরিবর্তনের কাজে যুক্ত থাকা যায়, তাঁর জীবন ছিল তার উদাহরণ।
অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদমুক্ত সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন।
উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম বলেন, লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রণেশ দাশগুপ্ত সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত ভোগের পরিবর্তে ত্যাগের আদর্শকে গুরুত্ব দিয়ে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।
সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উদীচীর বিকাশেও রণেশ দাশগুপ্তের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বক্তারা। সহসভাপতি প্রবীর সরদার বলেন, ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর শিল্পী-সংগ্রামী সত্যেন সেনসহ কয়েকজন প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উদীচী প্রতিষ্ঠা করেন রণেশ দাশগুপ্ত। সংগঠনটির ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র রচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
আয়োজনের শুরুতে রণেশ দাশগুপ্তের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’। পরে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি শিবানী ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আজমীর তারেক চৌধুরী।
এতে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ, কেন্দ্রীয় সংসদের সংগঠনবিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগর সংসদের সহসভাপতি শংকর আচার্য, কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও শিবানী ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে ‘রানার’ কবিতা আবৃত্তি করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শিখা সেনগুপ্তা।
- বিষয় :
- মৃত্যুবার্ষিকী