ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ বিলের ১২ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ, ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ

বিদ্যুৎ বিলের ১২ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ, ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ
×
×

ছবি: সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩:০১ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩:০২

অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আদায়ের দাবি এবং দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ)। অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ ছিলেন অধ্যক্ষ।  

বিরোধের সূত্রপাত মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। পূজার ছুটির আগে কলেজের তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হয় ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর অনুষ্ঠান চলায় সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। পরে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এই দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুমের অভিযোগ, জরিমানা মওকুফের অনুরোধ জানাতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা ধরেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলনটা। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের সরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় এক বছর আগে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ একের পর এক অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছেন। আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকলেও মাসিক ফি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। আগামী বছর আরও ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বাংলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের সাবলেট দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। এসব অভিযোগের পাশাপাশি বদরুন্নেসা কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই হলের ফ্রিজ ও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ সকালে এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য না শুনে ধমক দেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এরপরই তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান শুরু করেন তারা। বিক্ষোভে ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

তবে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিবেচনায় রাত ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন বলেন, ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজ চলায় অনেক বহিরাগত শ্রমিক কাজ করছেন। এ অবস্থায় রাতে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হওয়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের কথা প্রাথমিকভাবে কেবল ভয় দেখানোর জন্য বলা হয়েছিল। পরে পূজার ছুটির পর গত রোববার সিদ্ধান্ত হয়, ফাইনাল ইয়ারের ওই দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হবে না।

১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানার অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষের ব্যাখ্যা, ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে এসি ও ফ্যান চলায় ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ অর্থ হোস্টেলের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।

অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার ঘটনার বর্ণনায় উপাধ্যক্ষ বলেন, সকালে তিনি ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যক্ষের কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী কথা বলার কথা বলে তাদের বাইরে ডেকে নেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা বন্ধ করে তালা দেওয়া হয় এবং স্লোগান শুরু করেন ছাত্রীরা।

উপাধ্যক্ষ জানান, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকেরা কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তাঁরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অনড়। বিকেল ৫টার পর অধ্যক্ষকে আর ক্যাম্পাসে দেখতে চান না বলেও আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। তবে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে হওয়ায় এভাবে সাদা কাগজে পদত্যাগ নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিবকে জানানো হয়েছে বলেও জানান উপাধ্যক্ষ।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন

×