ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দাবি মেনে ক্যাম্পাস ছাড়লেন হাবিপ্রবি ভিসি

দাবি মেনে ক্যাম্পাস ছাড়লেন হাবিপ্রবি ভিসি
×
×

উপাচার্য ড. মু. আবুল কাসেম

দিনাজপুর ও রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ | ০৮:৪৩

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়র (হাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. মু. আবুল কাসেমের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। 

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈরী আচরণ, ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে গভীর রাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন উপাচার্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফজলুল হক। যদিও তিনি বলেছেন, উপাচার্য স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলে ঢাকায় গেছেন। যাওয়ার আগে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হালদারকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য মু. আবুল কাশেম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসে। এর মধ্যে প্রধান বিষয় ছিল করোনাকালে উপাচার্য তার কার্যালয়ে না আসা এবং কারও সঙ্গে কথা না বলা। এছাড়া নিয়োগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈরী আচরণ, ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ বিভিন্ন দাবি তুলে মঙ্গলবার উপাচার্যের বাসভবনের ভেতর দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাসভবনে অবস্থান নেয় পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন। সারাদিন অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের দরজায় বসে অনড় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের বৈঠক হয়। বৈঠকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দেন উপাচার্য। এমন আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যান। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সস্ত্রীক ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন উপাচার্য মু. আবুল কাশেম।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ খান মঙ্গলবার বলেছিলেন- হল সংকট, যানবাহন সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে বিভিন্ন বিভাগে। তিনি এখানে আসার পর থেকেই শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি পিছিয়ে দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, চলতি দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে ঢাকায় গেছেন এটি জানি। এর বেশি কিছু জানি না। এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক মু. আবুল কাশেমের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে, রাবির চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। বুধবার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিতের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান ডাবলু সরকার। 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের গেটে তালা লাগিয়ে দেন চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারা। গত সোমবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের গেটে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করেন তারা।

আরও পড়ুন

×