'আইএস টুপি'র দায় নিচ্ছে না কেউ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৩
আদালতের এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় দণ্ডিত দুই জঙ্গির মাথায় আন্তর্জাতিক
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতাকার চিহ্ন সংবলিত টুপি-রহস্যের জট
খোলেনি। কীভাবে, কার মাধ্যমে, কখন এ টুপি জঙ্গিদের কাছে গেছে, তা
নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তদন্ত
শুরু করেছে।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এরই মধ্যে তারা সিসিটিভির বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ
করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় জঙ্গিদের
মাথায় আইএস প্রতীকের কোনো টুপি ছিল না। এ ছাড়া কারাগার থেকে এ ধরনের
দুর্ধর্ষ আসামি বাইরে নেওয়ার সময় তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। আগের রাত থেকেই
তাদের ব্যাপারে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। তাই কারাগারের
ভেতর থেকে এ ধরনের টুপি নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ নেই।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গিরা আইএস প্রতীকের টুপি ব্যবহারে কৌশলের
আশ্রয় নিয়েছে। কালো টুপির একটি অংশে কোনো চিহ্ন ছিল না। আরেকটি অংশে আইএস
প্রতীক ছিল। প্রথমে কালো টুপি যেভাবে পরা হয়েছিল, তা সবার চোখেই স্বাভাবিক
ছিল। কিন্তু রায় ঘোষণার পর কালো টুপি উল্টে আইএস প্রতীকের অংশ ওপরে তুলে
মাথায় পরে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান। ওই অবস্থায় সে ৩০
মিনিট আদালত এলাকায় ছিল। আদালত এলাকায় অন্য কারও কাছ থেকে তারা এ ধরনের
টুপি পেয়েছে- এমন কোনো তথ্য পুলিশ পায়নি।
রিগ্যান ছাড়াও আইএস প্রতীকের টুপি পরে আরেক জঙ্গি রাজীব গান্ধী। তবে
প্রিজনভ্যানে ফের কারাগারে যাওয়ার পথে তারা সে টুপি ছুড়ে ফেলে দেয়।
কর্মকর্তারা জানান, এরপর এ ধরনের চাঞ্চল্যকর রায়ের ক্ষেত্রে পুলিশ সতর্ক
থাকবে। কোনো জঙ্গি বা চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের আদালত এলাকার ছবি
এলোমেলোভাবে গণমাধ্যমকে তুলতে দেওয়া হবে না। পুলিশের দাবি, অনেক
গণমাধ্যমকর্মী আদালত এলাকায় জড়ো হয়েছিল তাই আইএস প্রতীকের টুপির বিষয়টি
তাদের নজরে আসেনি। কেন এ ধরনের দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও
হেলমেট ছাড়াই আদালতে নেওয়া হয়েছে, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- 'আইএস টুপি'র দায় নিচ্ছে না কেউ