ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনী সহিংসতা ছিল ভয়াবহ, এমএসএফের উদ্বেগ

নির্বাচনী সহিংসতা ছিল ভয়াবহ, এমএসএফের উদ্বেগ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৯:৪৮ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৯:৪৮

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, গত একমাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমলেও নির্বাচনী সহিংসতার ব্যাপকতা ছিল ভয়াবহ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মতামত প্রকাশের অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আইনজীবী সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমকি ও হামলা, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা, সীমান্তে হতাহতের মতো ঘটনাও বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। অপরদিকে গণপিটুনির মতো ঘটনাও বেড়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গত জানুয়ারি মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা অনেকটা কমেছে। তবে এই সময়ে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে ১৫ জানুয়ারি রাতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে ১১ জানুয়ারি নওগাঁর নিয়ামতপুরে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা র্যা বের পোশাক পরা দুই ব্যক্তি হাবিবুর রহমানকে হাতকড়া লাগিয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিগত সময়ে গুমের শিকার হওয়া বেশ কয়েকটি পরিবারের স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে অথবা পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করেন। ফলে নাগরিক জীবনে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। তাতে করে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার জন্ম দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে আসামির মৃত্যুর বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জানুয়ারিতে কারা হেফাজতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ কর্তৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। জানুয়ারিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পাঁচজন। চারজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকের গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক।

এমএসএফ সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে ৩২৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৬৫টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১২টি, ধর্ষণ ও হত্যা তিনটি। প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী ধষর্ণের শিকার হয়েছে ছয়জন।

আরও পড়ুন

×