ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টার

পুলিশের সামনে মালপত্র নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা

মূল অভিযুক্ত হানিফ এমপি মিষ্টির আত্মীয়, জড়িত অনেকে তার অনুসারী

পুলিশের সামনে মালপত্র নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা
×

পেছনে বিধ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। সামনে ত্রিপল টানিয়ে দেওয়া হয় হামের টিকা। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে - মাহবুব হোসেন নবীন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. হানিফ মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির স্বামী প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটনের মামাতো ভাই। হামলায় জড়িত অনেকে তাঁর অনুসারী বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গতকাল শনিবার সমকালকে বলেন, ‘হানিফ আমার মামা শ্বশুরের ছেলে। আমার নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব খাটান কিনা, জানি না। তিনি আমার সঙ্গে এখন আর রাজনীতি করেন না।’ 

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি পিকআপ রাড্ডার গেটের সামনে রাখা হয়। এর পাশে ২০-৩০ জন মুখে মাস্ক পরা ছিলেন। আশপাশে আরও লোক জড়ো হতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশের সামনেই লুট করা মালপত্র পিকআপে ভরে দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এ সময় পুলিশ নির্বিকার ছিল। লুটপাট শেষে ভেতরে ভাঙচুর শুরু হয়। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অধিকাংশই লোকই মুখোশ পরা ছিল। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে এই ভাঙচুর চালানো হয়। প্রথমে তাঁর লোকজন সেখানে অবস্থান নেয়। রাড্ডার আশপাশে তাদের পাহারা দেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের এক নেতা। এ ছাড়া শাহ স্মৃতি মার্কেটের নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার তাঁর ছেলে আল আমিনকে রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা দেয়ালে টানানো ব্যানার কারা নামিয়েছে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের জেরা করতে দেখা যায়। 

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অর্থ লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর সেখানে সমিতির সাইনবোর্ডও টানিয়ে দেওয়া হয়। সমিতির একটি অফিস মিরপুর-১ নম্বরে বৈশাখী সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায়। তবে গতকাল বিকেলে অফিসটিতে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কারা, তাদের নাম-পরিচয়ও কেউ বলছেন না।

লুটের পেছনে চিকিৎসাকেন্দ্রের জমি দখলের চেষ্টা আছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহ আলী থানায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার। এ ঘটনায় শুক্রবার চারজন এবং গতকাল আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানার পুলিশ। এ ছাড়া রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে লুট হওয়া বেশ কিছু মালপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দারুস সালাম থানার দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে দুটি পিকআপে ভরা অবস্থায় এসব মালপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে লুট হওয়া ফ্রিজ, ওষুধ, আসবাবসহ বিভিন্ন মালপত্র। 

এদিকে ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। পরে রাতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। ধ্বংসযজ্ঞের পর গতকাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পুলিশ পাহারা দেখা যায়। 

গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসার পর গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। যারা এসব করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থলের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে শাহ আলী থানা অবস্থিত। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে– এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কিনা এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য দারুস সালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সানজিদা আক্তার তুলি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং তারা তাদের ওপর আস্থা রাখতে চান। জড়িতরা যে দলেরই হোক, দল বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে যা ঘটেছে তা বড় অপরাধ এবং এর শাস্তি হবে।

এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা সরকার চায় না। তারাও চান না। এ ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গতকাল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। তবে রাতে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কিনা, জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, সেখানে এরই মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। 

ভাঙচুরে জড়িত ৯ জন গ্রেপ্তার
‎রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত গতকাল পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, শুক্রবার গ্রেপ্তার চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। 

শুক্রবার ‎গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)। ‎তারা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজন শাহ আলী মাজার এলাকায় ভাসমান হিসেবে অবস্থান করতেন। 

‎‎‎‎ভাঙা রাড্ডা সেন্টারে টিকাদান কর্মসূচি
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর গতকাল হামের টিকাদান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। দুপুরে‎ সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রাড্ডার ধ্বংসস্তূপে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখানে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। দেড় বছর বয়সী শিশু হালিমাকে টিকা দিতে এসে তাঁর মা বলেন, ‘টিকা দিতে মেয়েকে নিয়ে আসলাম। বাসার কাছে এখান থেকে আগেও টিকা দিয়েছি।’

‎ইসরাত নামে এক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। রাড্ডা থেকে আগের টিকাটা দিয়েছি। তাই জানতে আসছি আগামী মাসে টিকাটা তারা দেবেন কিনা।’

‎‎রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার সমকালকে বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা দিতে যেন কোনো সমস্যায় না পড়ে তাই ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবাটা চালু রাখার চেষ্টা করেছি।’

হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গতকাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে মানববন্ধন করেছে গণঅধিকার পরিষদ। 

মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন সমকালকে বলেন, রাজধানীতে মবের মতো করে একটা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। আর সেটা যদি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত হয়ে করেন, তাহলে সেটা আরও ভয়াবহ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারপারসন ও  নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক সমকালকে বলেন, ‘গভীর রাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এভাবে দখল করে নেওয়া খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। বর্তমানে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভালো না, তা আমরা প্রতিদিনের পত্রিকা থেকে জানি। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলের নানা অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার কথাও পত্রিকায় এসেছে। এগুলো সরকারের ভাবমূর্তির জন্য খুবই নেতিবাচক। এই সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অরাজকতা, দুর্নীতি ও পুলিশ বাহিনীর অসহযোগিতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। কিন্তু আরও অনেক সমস্যা মোকাবিলার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।’ 

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে’ 
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। মিরপুর শাহ আলীর মাজারের সামনে সমাবেশ থেকে হাসপাতালে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয়। 

গতকাল ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর। কোথায় প্রশাসন, কোথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আর মোটেই অস্পষ্ট নয়। তাদের পেটের ক্ষুধা কোনোভাবেই নিবারণ হচ্ছে না। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এই সুযোগটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিল। দুষ্কৃতকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একসময় জনগণের হাতেই তাদের শাস্তি পেতে হবে। 

মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি রেজাউল করিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিএনপির একজন এমপি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপি নেতার পরিকল্পনা ও ইন্ধনে হামলা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ বা মালিকানার দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তিতে আদালতের পথ খোলা। হাসপাতাল ভেঙে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির সরঞ্জাম লুট গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মীর আহমদ বিন কাসেম সৌদি আরব থেকে ভিডিও বার্তায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। গতকাল বিকেলে মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। সভ্য সমাজে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের প্রশাসন কোথায় ছিল? নাকি ধরে নেব, সরকার ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই হামলা হয়েছে?’

মিছিলপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন মহানগর উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকারসহ স্থানীয় নেতারা। সমাবেশের পর মিছিলটি শাহ আলীর মাজার থেকে রাড্ডা হাসপাতাল পর্যন্ত যায়। 

‘জাতির জন্য লজ্জার’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পুরো জাতির জন্য লজ্জার।

৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়াকে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, রাতভর প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা গভীর উদ্বেগের। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। 

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, রাজধানীর বুকে চর দখলের মতো একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় দেশে আদৌ কোনো সরকারের অস্তিত্ব আছে কিনা, তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

×