মর্গের উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, ব্যাহত ক্লাস-পরীক্ষা
ছবি- সংগৃহীত
শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:১০
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ছড়িয়ে পড়া উৎকট দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কসংলগ্ন একাডেমিক ভবনে তিনটি অনুষদের ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, মর্গের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সমস্যায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরাও।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, মর্গের গন্ধের কারণে দীর্ঘ সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাসে ঢোকার উপায় নেই। মর্গের এমন পচা গন্ধে টিকতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বমি করেছে। এই বাতাসে সারাক্ষণ ক্লাস করা আমাদের জন্য রীতিমতো এক ধরনের নির্যাতন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, মর্গের উৎকট গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের শ্রেণিকক্ষে থাকা যাচ্ছে না। এই গন্ধে আমি নিজেও বমি করেছি। অনেক শিক্ষার্থীও বমি করেছেন, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
মর্গের অবকাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. সোলায়মান কবীর বলেন, অবকাঠামোগত অনেক ত্রুটি রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কমানোর জন্য আমরা কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। আগামীকাল রাসায়নিক আসবে। এরপর পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
মর্গটির নকশাগত ত্রুটির কথাও স্বীকার করেন তিনি। ডা. সোলায়মান কবীর বলেন, প্রথমে যে সেটআপটা করা হয়েছিল, সেটাই ভুল ছিল। এটা কখনোই রাস্তার পাশে হয় না। তবে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, দ্রুতই সমাধান হবে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
- বিষয় :
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়