ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগ ‘ফ্যাসিজমের দোসরেরা’ করেছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগ ‘ফ্যাসিজমের দোসরেরা’ করেছে: ডিএনসিসি প্রশাসক
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক ‎

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৪ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৯

‎‎রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। ‘ফ্যাসিজমের দোসরেরা’ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

‎বুধবার দুপুর ১টার দিকে মিরপুর হোপ মার্কেট এলাকায় পরিদর্শন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। ‎ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজকে এটা পরিকল্পিতভাবেই করেছে, তাদের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। ফ্যাসিজমের দোসরেরা এই কাজ করেছে।’

‎ঘটনাস্থলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে তারা স্লোগান দিচ্ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে কারা স্লোগান দেয়—যারা ফ্যাসিজমের দোসর।’
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমি মিরপুরের সন্তান। জন্ম আমার এখানে। কারা কী করে, আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, জনসেবার দায়িত্ব নিয়েছি।’ 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আজও ফুটপাত উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করার সময় যারা দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তারা সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছে।’

‎প্রশাসক জানান, পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘নগরসেবার জন্য, আমার প্রিয় নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত উদ্ধারের যে কর্মসূচি আছে, তা চলমান থাকবে।’

হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে পরিকল্পিত দাবি করে শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিজমের দোসরেরা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে।

‎হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক। তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে কাউকে এখানে ফুটপাত দখল করতে দেব না।’

‎তিনি বলেন, ‘আমি যারা এই অরাজকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আজকে মামলা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মামলা হবে। তদন্ত করে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

‎শফিকুল ইসলামের দাবি, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

‎মিরপুরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে প্রশাসক বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ীই এ কাজ করা হচ্ছে। ‎তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

‎সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ
‎হামলায় সাংবাদিকেরা আহত হওয়ায় তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যারা আমার প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের ওপর হামলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‎উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ এলো। আমরা এসে একজন পুলিশ সদস্যকেও পাইনি। তাহলে তাদের প্রস্তুতি কোথায় ছিল?’‎‎
‎
‎পরে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বরের দিকে দুইপাশের সড়কের ফুটপাত ভেঙে গুড়িয়ে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ভারী যানবাহনে বেশ কিছু মালামালও তুলে নিতে দেখা যায়। 

আরও পড়ুন

×