বাংলাবাজারে ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্র খোলা
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১৬
রাজধানীর বাংলাবাজারে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্র গতকাল বুধবার খোলা ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রি বন্ধের দাবিতে গত সোমবার সেখানে তালা দেওয়া এবং দুই বিক্রয়কর্মীকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর প্রকাশনার স্বাধীনতা ও বই বিক্রির অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিক। গত মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। ইউপিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক ব্যক্তি বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি নিষিদ্ধ দাবি করে এর বিক্রি বন্ধের কথা বলেন। এক পর্যায়ে শোরুমের শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা ইউপিএলের দুই বিক্রয়কর্মীকে ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউপিএল জানিয়েছে, বইটির ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো চাপের মুখে বইটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষ্য, বইটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি একাডেমিক গ্রন্থ।
ঘটনার পর প্রকাশনা সংস্থা আদর্শও ইউপিএলের পাশে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশক মাহাবুব রহমান বলেন, ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় আদর্শের তিনটি বইকে কেন্দ্র করে স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার ঘটনায় ইউপিএল প্রকাশনার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। একই নীতিগত অবস্থান থেকে এবার ইউপিএলের পাশে দাঁড়িয়েছে আদর্শ।
এদিকে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত, সমালোচনা বা বিতর্কের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই অধিকার অন্যের বই প্রকাশ, বিক্রি বা পড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেয় না। বই নিষিদ্ধের বিষয়টি আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন।
সামাজিক মাধ্যমে অধ্যাপক আসিফ নজরুল পোস্টে লেখেন, অসমাপ্ত আত্মজীবনী কোনো নিষিদ্ধ বই নয়। বই বিক্রিতে বাধা, ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া এবং দুই কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি বেআইনি ও অপরাধমূলক উল্লেখ করে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের আহ্বান জানান। পাশাপাশি অতীতে বই বিক্রিতে বাধা ও বই নিষিদ্ধ করার ঘটনাগুলোর বিরোধিতা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন একই ধরনের কাজ করা মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
- বিষয় :
- বই