ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

গান-কবিতা-জারীতে শেষ হলো আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মোৎসব

গান-কবিতা-জারীতে শেষ হলো আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মোৎসব
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৪০

কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, জারী ও কোরিওগ্রাফি পরিবেশনার পাশাপাশি কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মাটি ও মানুষের জীবন, বাংলার লোকঐতিহ্য ও শেকড়ের কথা কবি আবদুল হাই মাশরেকীর সৃষ্টিতে উঠে এসেছে। তার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান স্মরণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরু হয় কবির রচিত ‘আজান হাঁকো’ ও ‘দুখু মিয়ার জারী’ এবং ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’, ‘সোনার আর বান্ধাইলে নাও’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা এসব পরিবেশনায় অংশ নেন।

পরে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা, সংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, জারী ও কোরিওগ্রাফি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের ‘মাশরেকী পুরস্কার ২০২৬’ এবং গুণীজনদের ক্রেস্ট, মেডেল, সনদসহ বিভিন্ন সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম। সভাপতিত্ব করেন কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও উত্তরার ঈশ্বরগঞ্জ ফোরামের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান।

কবির ছেলে ও কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক নঈম মাশরেকী বলেন, আবদুল হাই মাশরেকীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক তথ্য ও স্মৃতি রয়েছে। তাঁর লেখা বহু কবিতা ও গান এখনো মানুষের মধ্যে বেঁচে আছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, কবির অসংখ্য জনপ্রিয় লেখা এখনো শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা দেয়। মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজচেতনা তাঁর সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন নজরুল ভাবুক এইচ এম সিরাজ, গবেষক গাউসুর রহমান, চিত্রশিল্পী সন্তু সাহা ও আবু তাহের বকুল।

এবার জাগাও মোরে—কবির এই কবিতার বাণীকে স্মারক করে তার ১১৭তম জন্মোৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘মাশরেকী পদক ২০২৫’ দেওয়া হয়।

পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, প্রশাসন ক্যাটাগরিতে মো. শাহ আলম, চিত্রকলায় মরণোত্তর সৈয়দ লুৎফুল হক, আইন ও সমাজসেবায় মো. বোরহান উদ্দিন, কবি ও গবেষক গাউসুর রহমান, লোকসংগীতে আবদুর রহিম, মরণোত্তর শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. আরজ আলী, মরণোত্তর কবি শাহরিয়ার হোসেন সাব্বির, কলামিস্ট ফাহমিদা চৌধুরী, সংগঠক ও সংস্কৃতিজন মো. মজিবুর রহমান এবং কবি মিজান মাহমুদ।

আরও পড়ুন

×