রাজধানীর পল্লবী
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ৩
অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, শনাক্ত আরও ৩
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীতে চাঁদা না দেওয়ায় এক ফার্মেসিতে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন হারুন, জনি ও পারভেজ। গত সোমবার রাতে পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে পাওয়া যায় একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড গুলি। গ্রেপ্তাররা শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর-মামুন গ্রুপের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ২২ তলা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকার ওই ফার্মেসিতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ভয়ে এ ব্যাপারে কোনো মামলা বা অভিযোগ করেননি ভুক্তভোগী আফজাল মোল্লা। অবশ্য হামলার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেটির সূত্র ধরে ডিবি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে বিষয়টি জানার পাশাপাশি ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে। তাই মামলা না হলেও আমরা জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করি। একপর্যায়ে অস্ত্রগুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত আরও অন্তত তিনজনের নাম জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডিবি সূত্র জানায়, হামলার এক সপ্তাহ আগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। তবে তিনি টাকা দিতে রাজি হননি। এরপর ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা সেখানে হামলা চালায়। তারা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে। চাঁদা চাওয়া ও হামলায় জড়িতদের মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছাড়াও রয়েছেন রিয়াজ, ইব্রাহীম, সুজন, সজিব, জুবায়ের ও রাহুল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রামদা দিয়ে ব্যবসায়ীকে কোপাচ্ছেন। আরেকজন আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। আরেক যুবক দোকান থেকে ব্যাগে করে কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনজনেরই মাস্ক পরা ছিল। এ সময় ভিডিওতে একটি তরবারি দেখা যায়। পরে আরও এক যুবক দোকান থেকে কিছু একটা নিয়ে চলে যান। এ সময় হামলার শিকার ব্যবসায়ী কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কিছু করব না, আমি কিছু করব না বাবা।’
স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলাকারীরা সন্ত্রাসী চক্র ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সদস্য মশিউর-মামুনের সহযোগী। তাদের নামেই চাঁদা আদায় ও অপরাধমূলক কার্যক্রম চালায় স্থানীয় ওই সন্ত্রাসীরা। তারা ব্যবসায়ীকে কোপানোর পর হুমকি দেয়, পুলিশকে কিছু জানালে মেরে ফেলা হবে। এই ভয়ে তিনি মামলা করতে যাননি। তবে তিন আসামি গ্রেপ্তারের পর গতকাল স্থানীয় পল্লবী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি থানায় এলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির।
ডিবির দায়িত্বশীলরা বলছেন, হামলায় জড়িতরা স্থানীয় সন্ত্রাসী বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগাযোগ আছে কিনা, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে মিরপুর এলাকার সব সন্ত্রাসীই নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে ফোর স্টার গ্রুপ বা মশিউর-মামুনের লোক বলে পরিচয় দেয়। তারা যে চক্রেরই লোক হোক, তাতে আইন প্রয়োগের কোনো হেরফের হবে না। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকিদেরও শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।