ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নজরুল ইসলাম মজুমদারের গুলশানের ভবন ক্রোক

নজরুল ইসলাম মজুমদারের গুলশানের ভবন ক্রোক
×
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

১০৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানের একটি ভবন ক্রোক করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। অর্থঋণ আদালতের আদেশের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুলশানের ওই ভবনে বর্তমানে বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

জানা গেছে, ইউসিবির মহাখালী শাখা থেকে নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলের নামে ঋণ নেন নজরুল ইসলাম। সুদসহ এখন ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বেশ আগে এই ঋণ খেলাপি হলেও তা পরিশোধ করছে না নাসা গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান। খেলাপি ঋণ আদায়ে গত বছরের জুলাইতে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির নিলাম ডাকে ব্যাংক। সম্পত্তি কেনার জন্য গ্রাহক না পেয়ে পরে মামলা করে। ইউসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢোল পিটিয়ে এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার অর্থঋণ আদালত। একই সঙ্গে সম্পত্তির দৃশ্যমান স্থানে নোটিশ টানানোর আদেশ দেওয়া হয়। সে আলোকে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দিয়েছে ইউসিবি।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদার জেলে আছেন। আওয়ামী লীগের পুরো সময়জুড়ে তিনি বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কর ফাঁকি, অর্থপাচার, প্রভাব খাটিয়ে নানা সুবিধা নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপের বিষয়ে যৌথ তদন্ত করছে 
সরকার। এই তালিকায় নাসা গ্রুপ রয়েছে। নাসা গ্রুপ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে অন্তত ২২টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণের তথ্য পেয়েছে এ-সংক্রান্ত কমিটি।

গতকাল বুধবার গুলশানের ভবনে ‘সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে একটি সাইন বোর্ড টানিয়ে দিয়েছে ইউসিবি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘সর্বসাধারণের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের প্রতিনিধিত্বে চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম মজুমদার ইউসিবির মহাখালী শাখা থেকে ঋণ নেন। ঋণ আদায়ের জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করেন। নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলসের নামে মামলা চলা অবস্থায় বাদী ব্যাংকের (ইউসিবি) আবেদনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই সম্পত্তির ব্যাংকের অনুকূলে ক্রোকাবদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। পরবর্তী সময়ে আদালত ঢোল পিটিয়ে ক্রোকী পরোয়ানা জারি এবং সম্পত্তির দৃশ্যমান স্থানে নোটিশ স্থাপন করে আদালতে সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।’
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই সম্পত্তি বর্তমানে ব্যাংকের দাবি ও স্বার্থের অধীন। সম্পত্তির ওপর ব্যাংকের বৈধ স্বার্থ ও দায়বদ্ধতা বিদ্যমান থাকায় সম্পত্তি সংক্রান্ত সব ধরনের ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, সমর্পণ, দলিল রেজিস্ট্রেশন, দখল হস্তান্তর বা অন্য কোনো লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আদালত অবমাননার শামিল হবে। তপশিল বর্ণিত সম্পত্তি সম্পর্কিত যে কোনো প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ বা সম্পাদনের আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের লিখিত সম্মতি গ্রহণ করা একান্তই আবশ্যক। অন্যথায় তা আইনগতভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

আরও পড়ুন

×