ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

‘মৌলবাদী’ বলে কটাক্ষের অভিযোগ, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি

‘মৌলবাদী’ বলে কটাক্ষের অভিযোগ, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি
×

ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪০ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৪৭

নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে বিভাগীয় সিদ্ধান্তে পাঠদান কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানান। তাদের অভিযোগের পর জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডেকে ওই শিক্ষকের কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়। সেই রেজুলেশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করে অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পোশাক ও আর্থিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন তিনি। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।

এর প্রতিবাদ করেন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার। তিনি বলেন, নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এ কারণে তাঁকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়।

সুমি আক্তারের ভাষ্য, এক পর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন, নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন।

ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বের হয়ে গেলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে এর আগেও অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। তাই একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর দেওয়া উচিত নয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×