প্রদর্শনী
রেখার ভাষায় ৭ দশকের শিল্পযাত্রা
গত শুক্রবার রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে দলীয় রেখাচিত্র প্রদর্শনী ‘আনব্রোকেন লাইন’। গতকাল রোববার প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০০
কখনও কাগজে কয়েকটি টান, কখনও ছায়া-আলোয় বিমূর্ত অবয়ব, আবার কখনও মানুষের মুখ কিংবা জীবনের কোনো মুহূর্তের সরল প্রকাশ– রেখার এমন নানা ভাষায় শিল্পের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শিল্পীরা। রং ও বর্ণিল উপস্থাপনার বাইরে রেখার স্বতন্ত্র শক্তি, বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে চলছে দলীয় প্রদর্শনী ‘আনব্রোকেন লাইন’ (অপ্রমেয় রেখা)।
সাত দশকের চারুশিল্পের বিবর্তন সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের শিল্পচর্চার বিভিন্ন প্রজন্মের ৪২ শিল্পীর রেখাচিত্র। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনীটি শুরু হয়। কামরুল হাসান প্রদর্শনী কক্ষে আয়োজিত এই আয়োজনে দেশের আধুনিক চারুশিল্পের পথিকৃৎ জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দীন আহমেদের কাজের পাশাপাশি রয়েছে প্রবীণ, মধ্য প্রজন্ম ও উদীয়মান শিল্পীদের নানা কর্ম। এসব কাজের মধ্য দিয়ে রেখাচিত্রের বিষয়, আঙ্গিক ও প্রকাশভঙ্গির বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শক।
শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে কোনোটি মানুষের অবয়ব ও মুখাবয়বের সরল রেখায় নির্মিত, কোনোটি আবার ঘন রেখা ও ছায়ার মধ্য দিয়ে তৈরি করেছে ভিন্ন আবহ। একটি শিল্পকর্মে নারীর অবয়ব ফুটে উঠেছে সংযত রেখায়; অন্য একটি চিত্রে অস্পষ্ট ও ঘন কালো রেখার সমাবেশে তৈরি হয়েছে বিমূর্ত দৃশ্যপট। কোথাও নৌকা ও জলজ জীবনের ইঙ্গিত, কোথাও আবার মানুষের অবয়ব ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত প্রকাশ। এসব কাজে রেখা কখনও বিষয়কে স্পষ্ট করে, কখনও তার আড়ালে থাকা অনুভূতি ও কল্পনার পরিসর তৈরি করে।
দেয়ালে পাশাপাশি ও বিভিন্ন উচ্চতায় সাজানো শিল্পকর্মগুলো দর্শককে রেখার নানা প্রয়োগের সঙ্গে পরিচিত করে। কোনো কাজের গাঢ় রেখা ও অনিয়মিত টানের বিপরীতে অন্য কোনো কাজে রয়েছে মিতব্যয়ী আঁচড় ও ফাঁকা জায়গার ব্যবহার। ফলে একই মাধ্যমে শিল্পীদের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি, পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে ড্রইং ও রেখাচিত্রের চর্চা কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক শিক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার দলিল এবং সমকালীন শিল্পভাবনার স্বতন্ত্র প্রকাশমাধ্যম হয়ে উঠেছে, সেই দীর্ঘ যাত্রাকে সামনে আনাই এ প্রদর্শনীর অন্যতম তাৎপর্য। এখানে রেখাচিত্র শুধু অন্য কোনো শিল্পমাধ্যমের প্রাথমিক প্রস্তুতি নয়, নিজস্ব ভাষা, নির্মাণশৈলী ও ভাবনার স্বাধীন পরিসর হিসেবে উপস্থিত। ঢাকার বাইরের আঞ্চলিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক ও নিরীক্ষাধর্মী কাজের উপস্থিতিও প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের শিল্পভাবনা তুলনা করে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন– আমিনুল ইসলাম, অঞ্জয় কুমার, বিপুল শাহরিয়ার, বিপাশা হায়াত, ঢালী আল মামুন, ফারাহ নাজ মুন, হামিদুজ্জামান খান, হৃতেন্দ্র কুমার শর্মা, ইমাম হোসেন সুমন, ইসমাইল, ইসমাত আজম, ইসরাত জাহান তন্নি, জান্নাতুন নূর সায়মুম, যোগেন চৌধুরী, কালিদাস কর্মকার, কাজী আব্দুল বাসেত, লালু প্রসাদ শ, ময়নুল ইসলাম পাল, মো. আরমান চৌধুরী, মো. মুনেম শাহরিয়ার, মো. সাইফুল্লাহ আবীর, মিশকাতুল আবীর, মুর্তজা বশীর, মোস্তফা জামান, নাসির আহমেদ, নাজনীন আহমেদ, নূর এ আমেনা, পরিতোষ সেন, কাইয়ুম চৌধুরী, কামরুল হাসান, রফিকুন নবী, রিকেল চাকমা, সফিউদ্দীন আহমেদ, সনৎ কর, সঞ্জয় কুমার সূত্রধর, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য্য, লিটন চন্দ্র সরকার, সিনথিয়া আক্তার শান্তা, এস এম সুলতান, সোমা সুরভী জান্নাত, সৈয়দ জাকির ইমন, তায়েবা বেগম লিপি ও জয়নুল আবেদিন।
প্রদর্শনী চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
- বিষয় :
- প্রদর্শনী