যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান নারীপক্ষের
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:০৬
যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা এবং যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নারী অধিকারবিষয়ক সংগঠন নারীপক্ষ।
বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে যৌনকর্মের অপরাধমুক্তকরণবিষয়ক এক অধিবেশনে এ আহ্বান জানানো হয়। অধিবেশন পরিচালনা করেন সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন।
অধিবেশনে জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার সঙ্গে মানব পাচার বেড়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। যৌনকর্ম ও মানব পাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন কারণে যাঁরা যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের মর্যাদা ও মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের অবমাননা করে এমন শব্দের পরিবর্তে সম্মানজনক ও সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ‘পতিতা’র পরিবর্তে ‘যৌনকর্মী’ এবং ‘বেশ্যাপল্লি’র পরিবর্তে ‘যৌনপল্লি’ শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
জান্নাত হুসনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যৌনকর্ম বলতে সম্মতিদানকারী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে বোঝানো হয়। এ ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়কেই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং তাঁদের সম্মতি থাকতে হবে। সম্মতির বাইরে জোরপূর্বক যৌনসেবা গ্রহণ, শোষণ ও নিপীড়নের মতো বিষয়গুলো যৌন শোষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অধিবেশনে জাহানারা খাতুন বলেন, নাগরিকত্বের প্রশ্নে যৌনকর্মী ও অন্য নাগরিকদের অবস্থান একই। সবাই এ দেশের নাগরিক। তাই অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও একে অপরের পাশে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, যৌনকর্মীদের একটি বিশেষ পরিচয়ের মধ্যে আটকে রেখে প্রায়ই অপরাধপ্রবণ হিসেবে দেখা হয়। সমাজের নানা কলঙ্ক ও নেতিবাচক ধারণার দায় তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সমাজে আরও অনেক গুরুতর অপরাধ ঘটলেও সেগুলো নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। যৌনকর্মীদের সবার আগে একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
- বিষয় :
- যৌনপল্লী