তুরাগ
মসজিদে বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা বিএনপি নেতার, মবের শঙ্কা
মসজিদে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫১ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫২
রাজধানীর উত্তরা-১০ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়ে বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। গতকাল এক শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় তিনি এমন ঘোষণা দেন। তার ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বস্তিতে মাদককারবারের দাবি সত্য। তবে সেখানে তুরাগ থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও যুবদলের এক নেতার কারণে মাদক বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এভাবে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হলে মব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের অনুসারী বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম একের পর এক বিতর্কিত কাজ করছেন। তার কারণে তুরাগ থানা বিএনপিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। এমনকি মোস্তফা জামানের কথাও অগ্রাহ্য করেন তিনি। তার কারণে দল সমালোচিত হচ্ছে। এভাবে মব সৃষ্টির উস্কানি দিয়ে তুরাগে বিএনপিকে আবারও সমালোচিত হওয়ার পথ করছেন তিনি। এ কাজের জন্য প্রশাসন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরাগ থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যক্তিস্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ করেছেন বলে রেকর্ড নেই। স্থানীয়ভাবে চাদাবাজি, রাস্তাঘাটে অবৈধ ভ্যান স্থাপন সবই করছেন তিনি। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল বিদ্যালয়ের জমি দখল করে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড স্থাপন। বিদ্যালয়ের জমিও বিক্রি করে ফেলেছেন ভুয়া দলিলে।
১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা বলছেন, মাদক কারবার বন্ধ হোক তারাও চান। কিন্তু এভাবে মব করে নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি বস্তির অপর পাশে একটি জমিতে আড়ত স্থাপন করতে গিয়ে জহিরসহ বিএনপি নেতারা বিতর্কিত হন। এর জের ধরে সেক্টরের প্লট বেদখলের পাঁয়তারা চলছে। যার কারণে এই বস্তি উচ্ছেদের তাড়া। মাদক বেচাকেনা বন্ধের ব্যাপারে তারা একমত। তবে আইন অমান্য করে নয়। তাছাড়া জহিরুল ইসলাম নিজেই তুরাগের সবচেয়ে বড় দখলবাজ হিসেবে বিতর্কিত। এমন উচ্ছেদের কাজেও তার স্বার্থ থাকতে পারে।
এ বিষয়ে কথা বলতে জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিক কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।
শুক্রবার জুম্মার সময় ওই মসজিদে উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লি এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জামান জানান, মাদক নির্মূলে সরকার প্রতিজ্ঞ। কিন্তু স্থানীয়দের ঝুঁকির মুখে ফেলে সেটা করা যাবে না। জহিরুল ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব। তবে সে যেন এমন কিছু না করে যাতে মব সৃষ্টির সুযোগ পায় কেউ, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যে-কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, মাদক কারবার বন্ধে নিরন্তর কাজ করছে পুলিশ। একের পর এক অভিযান চলমান। এই মুহূর্তে সেখানে মাদককারবারিদের কোনো স্পট নেই। ওই বিএনপি নেতা মসজিদে এমন বক্তব্য দিয়ে থাকলে তা আপত্তিকর। প্রশাসনের প্রতি মানুষের মাঝে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। বস্তি উচ্ছেদ করতে গেলে সেখানকার মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।