মিরপুরে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা শুরু
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫৬
রাজধানীর মিরপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৫ম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। শুক্রবার মিরপুর-১৩-এর পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংস্কৃতিকর্মী তনয়া দেওয়ানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও মানবাধিকারকর্মী শিরিন পারভিন হক এবং অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস দেশের অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে বাঙালিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এবং তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের চিত্র ফুটে উঠবে। আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাবার দেশের সম্পদ, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আদিবাসীদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও রীতিনীতির প্রতিফলন ঘটাতে ‘আদিবাসী’ শব্দটির গুরুত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিরিন পারভিন হক বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বহুজাতি ও বহুসংস্কৃতির মানুষের পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে। দেশে খাদ্যে ভেজালের বিস্তারের মধ্যে আদিবাসীদের উৎপাদিত অনেক খাদ্যপণ্য এখনো নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত রয়েছে। নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা সংরক্ষণের পাশাপাশি আদিবাসীদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে ভূমির অধিকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু তাদের ভূমির অধিকার এখনো স্বীকৃত নয়। প্রতিনিয়ত ভূমি দখলের কারণে তারা উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা বলেন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনপদ্ধতি মানুষের কাছে তুলে ধরতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদিবাসীদের খাদ্য উৎপাদনপদ্ধতি সংরক্ষণ ও বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, আদিবাসীরা এ দেশেরই অংশ। তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় আদিবাসীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য আলাদা বাজার গড়ে তোলার দাবিও জানান তিনি।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি ও অন্য অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।
মেলায় পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার ও কৃষিপণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। পাহাড়ের জনপ্রিয় ব্যাম্বু শুট, কলাপাতায় রান্না করা বিভিন্ন পদের হেবাঙ, জুমের সবজি ও পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার পাজন রয়েছে মেলায়। পাশাপাশি মণিপুরি, গারো ও রাখাইন জনগোষ্ঠীর খাবারও পাওয়া যাচ্ছে। রাখাইনদের কালো ও সাদা বিনি চালের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা এবং মুন্ডি মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
আয়োজকেরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সন্ধ্যায় থাকছে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ আইডল মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও গারো শিল্পী মার্কুস চিসিম। এ ছাড়া পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনার আয়োজনও রয়েছে।