ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি, সেখানেই  ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি, সেখানেই  ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
×
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৬

সানজি গ্রুপ অব কোম্পানির ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সানজি গ্রুপের অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্থ সারথী হালদার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেন। মামলার 

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির মালিকের স্বাক্ষর করা খালি চেকে প্রাপকের নাম বদলে অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করতেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়া হতো না। ব্যাংক ট্রান্সফার ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের (আরটিজিএস) মাধ্যমেও ব্যক্তিগত হিসাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের হিসাব ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হতো। তবে ব্যাংক বিবরণী ও গ্রাহকভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনায় ওই অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি। সিআইডির তদন্তে পার্থ সারথী হালদারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং আরেক ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের তথ্যও উঠে এসেছে। সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পার্থ সারথী একাই বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও খালি চেক সংগ্রহ করে পরে নিজেদের পছন্দমতো প্রাপকের নাম বসিয়ে টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে সব মিলিয়ে ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের পুরো ঘটনা, এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অর্থের লেনদেনের বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

এ মামলায় এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি এবং সৈয়দ আরব আলী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×