ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা খাতে বড় সুখবর নেই

শিক্ষা খাতে বড় সুখবর নেই
×
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

শিক্ষা খাতে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা নেই। নেওয়া হচ্ছে না নতুন কোনো প্রকল্প। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তি নিয়ে নেই কোনো আশ্বাস। বাড়ছে শুধু টাকার অঙ্ক। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে নেই বড় কোনো সুখবর। তবে শিক্ষার্থীদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যাপারে অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এটা বর্তমান সরকারের শেষ বছর এবং সামনে জাতীয় নির্বাচন– এ পটভূমিতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, হয়তো এক থেকে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত করা হতে পারে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বাজেট বক্তব্যের পর চুপছে গেছে শিক্ষকদের সেই প্রত্যাশার ফানুস।

গত জানুয়ারি থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে আংশিকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে। আগামী  জানুয়ারি থেকে অন্য শ্রেণিতেও তা চালু হবে। অথচ নতুন এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপের কথা বাজেট বক্তব্যে নেই।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে দেখা গেছে, নতুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় শিক্ষা খাতে টাকার অঙ্কে মোট বরাদ্দ বাড়ছে। এই অর্থবছরের চেয়ে আগামী বাজেটে ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী অর্থবছরে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে মোট ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ছিল ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৪২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ছিল ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে চলতি অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা।

শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা কয়েক বছর ধরেই শিক্ষা খাতের বাজেটে জিডিপির ৬ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সে প্রত্যাশা এবারও পূরণ হয়নি। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি খাত মিলিয়ে মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে হতাশ দেশের শিক্ষাবিদরাও। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বাজেট ঘোষণার পর সমকালকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট যতটা ব্যবসাবান্ধব, ততটা শিক্ষা সহায়ক নয়। তিনি বলেন, সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জিডিপির ৫ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা রয়েছে। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা খাতের বাজেট এবার খুব গতানুগতিক। এতে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই।

গত অর্থবছরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কেও একীভূত করে ‘শিক্ষা ও প্রযুক্তি’ খাত করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেই থাকছে বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

মানসম্মত শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন অর্থবছরে ৯০টি প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে ৪ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিষয়ক ১৫টি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এই জুনের মধ্যেই ১৫ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে ৬৮ লাখ বই বিতরণ করার কথা বলা আছে। এর বাইরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনা সরকারের আছে বলে জানানো হয়েছে।

এবারের বাজেট প্রস্তাবে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত এমপিওভুক্তি খাতে আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকেই এ বছর বেশকিছু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হতে পারে।

ব্যাপক জনপ্রত্যাশা থাকলেও শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি, শিক্ষা খাতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস প্রস্তাবিত বাজেটে দেওয়া হয়নি। তবে চলমান প্রকল্পগুলোই চালিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×