এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত অক্টোবরে
মেসবাহুল হক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি আগামী ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আলোচনা করবে। কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরাসরি বাড়তি সময় দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে। আবার উত্তরণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণের সুপারিশও করতে পারে। পরে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ভোট দেবেন। বেশির ভাগ দেশ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিলে তা কার্যকর হবে। টেকসইভাবে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় চেয়ে বাংলাদেশ এ অনুরোধ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) মাধ্যমে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) যে সুপারিশ পাঠিয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি বাংলাদেশের অনুরোধ বিবেচনা করবে। একে বলা হয় দ্বিতীয় কমিটি।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় কমিটির ৮১তম অধিবেশন ১ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধসংক্রান্ত সুপারিশ ৭ অক্টোবরের বৈঠকে আলোচনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের বর্তমান তারিখ ২৪ নভেম্বর। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগেই পেছানোর আবেদন নিষ্পত্তি হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে সুপারিশ করেছে এবং ইকোসকের মাধ্যমে তা সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটিতে পাঠিয়েছে। এখন দ্বিতীয় কমিটি বৈঠক করবে এবং সেখানে গৃহীত প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে পাঠাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখানে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্বিতীয় কমিটি ভোটাভুটি ছাড়াই বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুপারিশ করতে পারে। আবার তারা প্রয়োজন মনে করলে সময় বাড়ানোর বিষয়টি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটির ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশও করতে পারে। তবে ভোটাভুটির ওপর ছেড়ে দিলেও যাতে ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করছে। সরকার আশা করছে, বাংলাদেশ বাড়তি তিন বছর সময় পাবে।
সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের আবেদন জানায়। পরে গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক চিঠিতে এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে সিডিপি বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন জানালেও প্রস্তুতিকাল কত দিনের জন্য বাড়ানো উচিত, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ করেনি।
এরপর গত জুলাইয়ে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বাংলাদেশের তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদনটি বিবেচনার জন্য সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে। তবে তারা নির্দিষ্টভাবে তিন বছর সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেনি। নেপালও তাদের এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। দ্বিতীয় কমিটির দায়িত্ব হলো সুপারিশটি বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত সাধারণ পরিষদে পাঠানো। এরপর সাধারণ পরিষদ প্রস্তাবটি বিবেচনা করবে।
সরকারের পরিকল্পনা
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন অনুমোদিত হলে ২০২৬-২৯ মেয়াদে অন্তত ২৫টি সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এতে বাণিজ্য, আর্থিক খাত, রাজস্বব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অগ্রাধিকারভিত্তিতে মুক্ত বাণিজ্য বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বাড়ানো, সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন
প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা হবে।
- বিষয় :
- এলডিসি