‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ অঙ্গীকারে কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:৪৮
‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। আধুনিক, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রত্যয় নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শেয়ারহোল্ডার, কর্পোরেট ক্লায়েন্ট, স্টেকহোল্ডার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ শুধু ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নয়, এটি আগামী দিনের কমিউনিটি ব্যাংকের কৌশলগত অঙ্গীকার। পরিবর্তনকে উন্নতির চালিকাশক্তি, প্রবৃদ্ধিকে মানুষের ও ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যম এবং সাসটেইনেবিলিটিকে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হিসেবে নিয়ে ব্যাংকটি এগিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, কমিউনিটি ব্যাংকের ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিন্তাধারা, কাজের পদ্ধতি, সেবার সংস্কৃতি এবং গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রোথ বা প্রবৃদ্ধির অর্থ শুধু ব্যবসার পরিধি বাড়ানো নয়; ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহকের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান আরও বিস্তৃত করাও এর অংশ।
সাসটেইনেবিলিটি বা টেকসইতা ব্যাংকের প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ব্যবসা, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ব্যাংকের লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
তিনি কমিউনিটি ব্যাংকের গ্রাহকসেবা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম আরও অর্থবহ ও জনকল্যাণমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর কার্যক্রম যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিটি উদ্যোগ ও বিনিয়োগ যেন মানুষের সেবা, জীবনমানের উন্নয়ন এবং সমাজের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মানুষের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার মাধ্যমে একটি ব্যাংক তার সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী দিনের পথচলায় কমিউনিটি ব্যাংক আরও আস্থাশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ব্যাংকটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকা এবং দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম বলেন, কমিউনিটি ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা এবং গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে প্রযুক্তি কিংবা পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিদিন দায়িত্ব পালনকারী মানুষের শ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি ব্যাংকের প্রতিটি অর্জনের পেছনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূমিকা রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, গ্রাহকের পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং অর্থনীতির নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমিউনিটি ব্যাংককে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক হতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু একটি ব্যাংক বড় করতে চাই না; আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই, যার সঙ্গে মানুষের আস্থা, ব্যবসার সম্ভাবনা এবং দেশের অগ্রগতি একসূত্রে যুক্ত।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (ফিন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন, বিপিএম (সেবা) এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বক্তারা সুশাসন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং, আর্থিক শৃঙ্খলা, গ্রাহকসেবা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুটি নতুন ঋণপণ্য উদ্বোধন
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের দুটি নতুন পণ্য—‘কমিউনিটি বাইক লোন’ এবং ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের এএসআই পদ থেকে ইন্সপেক্টর এবং সমমর্যাদার নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য চালু করা ‘কমিউনিটি বাইক লোন’ ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চলাচলের প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল কেনার বিশেষ ঋণসুবিধা।
অন্যদিকে, ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’ মানুষের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিকল্পিত একটি আবাসন ঋণসুবিধা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন দুটি পণ্য মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সমাধান দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ব্যাংকের গ্রাহককেন্দ্রিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সেরা কর্পোরেট ক্লায়েন্ট ও কর্মীদের পুরস্কার
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা কর্পোরেট ক্লায়েন্ট, সেরা ব্রাঞ্চ/সাব-ব্রাঞ্চ এবং সেরা কর্মী হিসেবে নির্বাচিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন) এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, বিপিএম; অ্যাডিশনাল আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম; অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, বিপিএম (সেবা); অ্যাডিশনাল আইজি ও রেক্টর, পুলিশ স্টাফ কলেজ কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম (সেবা); মহাপরিচালক, এসআরবি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম (সেবা); অ্যাডিশনাল আইজি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ মো. কামরুল আহসান; ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জ মো. জুলফিকার আলী হায়দার; ডিআইজি (ফিন্যান্স), বাংলাদেশ পুলিশ মো. আতিকুর রহমান, বিপিএম; অ্যাডিশনাল ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন; অ্যাডিশনাল ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট আহম্মদ মুইদ, বিপিএম (সেবা); অ্যাডিশনাল ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) খন্দকার শামীমা ইয়াছমিন; ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ কামরুল হাসান তালুকদার, পিপিএম (সেবা); স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ রফিকুল হক এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ তফাজ্জুল হোসেন, এফসিএ।
এ ছাড়া কমিউনিটি ব্যাংকের গ্রাহক, কর্পোরেট ক্লায়েন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাত বছরের অর্জন ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে আগামী দিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছে কমিউনিটি ব্যাংক। ‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’—এই তিন দর্শনের সমন্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা আরও গভীর করা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।
- বিষয় :
- কমিউনিটি ব্যাংক