ট্রেজারি বিল বন্ডে সুদহার আবারও বাড়ছে
ওবায়দুল্লাহ রনি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের খরচ বাড়ছে। এতে আগামী অক্টোবরে বেশি ঋণ নিতে হতে পারে সরকারকে। ব্যাংক খাতে এমন খবরে দ্রুত কমতে থাকা ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার আবার বাড়ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে ট্রেজারি বিলের সুদহার সাড়ে ৮ শতাংশের নিচে নেমেছিল। গত রোববার তা প্রায় ৯ শতাংশ ছুঁয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। যে কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে জুলাইতে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাতে সাড়া মিলছে না। এ সময়ে অনেক ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে। বাড়তি তহবিল সরকারি বিল, বন্ডে টাকা খাটানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল অনেক ব্যাংক। তবে সরকারের বাড়তি টাকা লাগবে– এমন খবরে কমতে থাকা সুদহার আবার বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সাময়িকভাবে এই টাকা অন্য খাত থেকে এনে দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামী মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিতে হবে। ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যে কারণে সুদহার বাড়ছে। তবে ব্যাংক খাতে অনেক উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় সুদহার অনেক বাড়বে না বলে তাঁর ধারণা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে দীর্ঘদিন দুই অঙ্কে থাকা সুদহার কমতে কমতে ১৩ সেপ্টেম্বর ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশে নামে। গত রোববার তা বেড়ে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশে উঠেছে, গত আগস্টে যা ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ ছিল। গত মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে। একইভাবে অন্য সব বিল ও বন্ডেও সুদহার বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের খরচ বাড়ছে। আবার বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সরকারের খরচ অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে আশানুরূপ রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এর মধ্যে বিদেশি ঋণছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হবে। ফলে সুদহার বাড়ছে। অবশ্য প্রথম দুই মাসে সরকারের ঋণ তেমন বাড়েনি। বরং এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুর দিকে খরচের চাপ কম থাকায় প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে তিন হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়েছে। এতে করে জুনের তুলনায় গত আগস্টে এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দুই মাসে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকার ঋণ ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা বেড়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এ ঋণ ছিল কোনো এক অর্থবছরের রেকর্ড।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঞ্চয়পত্র থেকে আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না সরকার। গত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে টানা তিন অর্থবছর ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা নিট ঋণ এসেছে। গত অর্থবছর সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শেষ পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি টাকার ঋণ পায় সরকার।
তিন মাস অন্তর মুদ্রানীতি
দীর্ঘদিন ধরে তিন মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণার শর্ত দিয়ে আসছে আইএমএফ। এতদিন ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা হলেও প্রথমবারের মতো অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য আজ বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ জুন মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আপাতত নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে নতুন মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরির ঝুঁকির কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
- বিষয় :
- সুদহার