নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি
ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৩
জ্বালানির মূল্য ও পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরকম বাস্তবতায় আপাতত নীতি সুদহার কমাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করা এবং বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে নতুন করে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর সারোয়ার হোসেন ও আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মুদ্রানীতি কমিটির সভায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর সংকটের সময় ধার নেওয়ার মাধ্যম ‘স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ)’ হার ১১ শতাংশ এবং ‘স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)’ হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এখনও থেকে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি গত জুনের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আইএমএফ প্রাক্কলন সংশোধন করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান করাই হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখবে এবং তথ্য-উপাত্ত-ভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করবে; এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ঋণ সহায়তা, কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে বিনিময় হারের নমনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক লক্ষ্য হলো—মূল্য স্থিতিশীলতা, বাহ্যিক খাতের ভারসাম্য এবং আর্থিক ব্যবস্থার দৃঢ়তা বজায় রেখে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে। এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও বেশ দুর্বল (মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ), যা বিনিয়োগ খরা ও ব্যবসায়ীদের মন্দা ভাবকে স্পষ্ট করে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি, সিএমএসএমই ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য আরও ৪০ কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্যাকেজের অর্থ যথাযথভাবে বিতরণের জন্য শিগগিরই একটি বিস্তারিত কর্মসূচি দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- মুদ্রানীতি
- সুদহার
- বাংলাদেশ ব্যাংক