সয়াবিন তেলে কোনো ভারী ধাতু নেই
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের বাজারে ফর্টিফাইড বা পুষ্টিযুক্ত সয়াবিনে কোনো ভারী ধাতু নেই বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতুর
উপস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিএসটিআই খোলাবাজার থেকে ১৯৩টি ফর্টিফাইড নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে কোনো নমুনাতে ভারী ধাতুর অস্তিত্ব পায়নি। বাংলাদেশের বাজারে সব সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ। এতে কোনো ভারী ধাতু নেই। গতকাল বুধবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নজরদারি জোরদার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগে নিশ্চয়তা দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যেক মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে বিএসটিআইর জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসটিআইর মানচিহ্ন দেখে ক্রেতাদের মনে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির বড় অর্জন। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ যেন পণ্যের মান, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক হয় সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।
নকল, ভেজাল ও বিএসটিআইর মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহাররোধে পৃথক গোয়েন্দা ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএসটিআইর মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, নকল ও ভেজালের প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চালু করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, মান শুধু একটি কাগজের সনদ নয়, এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার চুক্তি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বিএসটিআই সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, সবুজ প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মান প্রণয়ন এবং তা পরীক্ষণ সুবিধা তৈরি করেছে।
এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআইর হালাল সার্টিফিকেশনের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন নিশ্চই বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নকল ও ভেজালরোধে নিজেদের স্বার্থে বিএসটিআইকে সব দিক থেকে সহযোগিতা এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করেছে বিএসটিআই। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রীর মাধ্যমে বিএসটিআই মহাপরিচালকের হাতে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ তুলে দেন বিএবির মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম। বিএসটিআই মনে করে, হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ফলে হালাল পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএসটিআইর ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ফলে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
- বিষয় :
- খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির