বাংলাদেশের এআই খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় গুরুত্বারোপ
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪৯
বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ট্রাস্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, এআইয়ের সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা ২০২৬-এর সাইডলাইন আয়োজনে বিশ্বব্যাংকের ‘নলেজ ক্যাফে’ অধিবেশনে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের জি-১৬ কক্ষে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘হোয়াট ডু ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমস নিড টু মোবিলাইজ প্রাইভেট ক্যাপিটাল?’ শীর্ষক এ আলোচনায় উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পলিসি ইন্ডিকেটরস গ্রুপের পরিচালক নরম্যান লোয়াইজা, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি বোর্ডের চেয়ার ক্লাউডিয়া বুখ এবং ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারত ও আসিয়ান অর্থনৈতিক গবেষণার প্রধান রাহুল বাজোরিয়া।
আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ডেভেলপমেন্ট ডেটা বা ‘ফিনডেটা’র আলোকে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগানো এবং বেসরকারি উদ্যোগের বিকাশে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কাজী রফিকুল আলম বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে এআই খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তির সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা জরুরি। এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উদ্যোক্তাদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, শিক্ষা, কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, বরিশালের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কাজী রফিকুল আলম। এআই খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জোরদারে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষকে সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া সম্ভব। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- আইএমএফ
- বিশ্বব্যাংক