সিটি গ্রুপের ব্যবসা চালাতে নতুন ঋণ দিচ্ছে ৮ ব্যাংক
ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৫
সমস্যাগ্রস্ত সিটি গ্রুপের ব্যবসা চালাতে এবার তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ নেওয়ার বিশেষ সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেশন পদ্ধতিতে ৮টি ব্যাংক এ অর্থ দিচ্ছে। এ জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিটি গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই অর্থ ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না তারা।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা এলসি সুবিধা দেওয়া যায় না। আইনের ২কক(৩) ধারায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে একই আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতা বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সাময়িক সময়ের জন্য ছাড় দিতে পারে। এই ক্ষমতাবলে সিটি গ্রুপকে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংক এ অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্য ব্যাংকগুলো হলো– বেসরকারি খাতের পূবালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, প্রাইম, ডাচ্-বাংলা, সাউথইস্ট, ট্রাস্ট ও এনসিসি ব্যাংক।
গতকালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি গ্রুপভুক্ত ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান– সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলসের অনুকূলে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সুবিধা দেওয়ার ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় বর্ণিত বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে না। বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের জন্য এ ছাড় কার্যকর হবে। তবে এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়হীন সম্পদ বন্ধকসহ বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ঋণ-সুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে না। ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সিন্ডিকেটেড ঋণের পাওনা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক সিটি গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সংকটে পড়েছে। ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে তারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। কিন্তু গ্যাস সংকট না পাওয়ায় কিছু কারখানা চালু করতে পারেনি।
ভোগ্যপণ্য ছাড়া ইস্পাত, শিপিং, চাসহ বিভিন্ন খাতে সিটি গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে। তারা তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করে। কয়েক মাস আগে তাদের ঋণ পরিশোধের সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। ঋণ সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলো এগিয়ে এসেছে। শুরুতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি তাদের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সায় দেয়।
গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রুপটির ঋণখেলাপি না করতে ব্যাংকগুলোতে বিশেষ সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত ৩১ মার্চ বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় জনস্বার্থে সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি না করা, সুদের হার কমানো, ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে সিটি গ্রুপ চিঠি দিয়েছিল।
বিভিন্ন ব্যাংকের আংশিক দায় পরিশোধ করে সংকট কাটাতে সিটি গ্রুপ তাদের হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া গ্রুপটির মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের ৮টি চা বাগানের আংশিক বিক্রিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মেলেনি। যে কারণে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ব্যাংক
- ঋণখেলাপি
- প্রজ্ঞাপন জারি