ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম ছবি সফল না হলেও নির্মাণ থেকে সরে যাব না: হৃদি হক

প্রথম ছবি সফল না হলেও নির্মাণ থেকে সরে যাব না: হৃদি হক
×
×

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৩ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৩ | ০৭:৩৯

হৃদি হক। নন্দিত অভিনেত্রী ও নির্দেশক। সম্প্রতি শেষ হয়েছে তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘১৯৭১ সেইসব দিন’-এর শুটিং। চলছে প্রচারণা। সিনেমা নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে–

মঞ্চে নির্দেশনা দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক দিনের। টিভি নাটকও পরিচালনা করেছেন। একইভাবে সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছাও কি আগে থেকেই ছিল?

সিনেমা নিয়ে ভাবনার শুরু নব্বই দশকের শেষ প্রান্তে, যখন বাবার [বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক] লেখা ‘সেইসব দিন’ নিয়ে নাটক মঞ্চায়নের প্রস্তুতি চলছিল। নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিল নাগরিক নাট্যাঙ্গন। তখনই আমার কাছে মনে হয়েছিল, শুধু মঞ্চ নয়, ‘সেইসব দিন’-এর কাহিনি সিনেমাতেও তুলে ধরা যেতে পারে। বাবাকে এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলাম। তাঁর কথা ছিল, সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি করলেও মূল ভাবনাটা যেন ঠিক থাকে। আমার পরিকল্পনা সেটাই ছিল। এরপর ধীরে ধীরে চিত্রনাট্য তৈরি করা থেকে শুরু করে সিনেমা নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সময় লেগে গেছে।

কেমন ছিল ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমার নির্মাণ অভিজ্ঞতা?

নানা ঘটনা সাক্ষী হওয়া থেকে শুরু করে অনেক চড়াই-উতরাই পেরোনো, কাজ শুরু করে থমকে যাওয়া, আবার নতুন করে শুরু করা– সবকিছু মিলিয়ে প্রথম সিনেমার জার্নিটা অদ্ভুত। ২০২০ সালে ছবির শুটিং শুরু করতে না করতেই করোনা হানা দিল; থেমে গেল শুটিং। বাবাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাবা বলতেন, কোনো কিছুতেই থেমে যাওয়া যাবে না। এরপর যত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে, বাবার এই একটা কথা মাথায় রেখেই কাজ করে গেছি। 

প্রথম সিনেমা নিয়ে আপনার প্রত্যাশার কথা জানতে চাই।

আমরা একটা পরিপূর্ণ সিনেমা নির্মাণের চেষ্টা করেছি। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে নেপথ্যের প্রত্যেক মানুষ একটি ভালো কাজ তুলে ধরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাই প্রত্যাশা এটাই, দর্শক হলে আসবেন, সিনেমাটি দেখবেন; জানাবেন ভালো লাগা ও মন্দ লাগার কথা।

ইতিহাসকে আশ্রয় করে আগেও অনেক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। সেদিক থেকে ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ কতটা আলাদা?

এটা বিচার করবেন দর্শক। আমরা শুধু বলতে পারি, ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ তীব্র ভালোবাসা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার গল্প। শুধু সময়টা ১৯৭১। তাই এর গল্প দর্শককে কাঁদাবে, হাসাবে; সেই সঙ্গে একাত্তরকে অনুভব করাবে।  

বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও কি নির্মাণ করে যাবে?

বাণিজ্যিক চিন্তাধারা নিয়ে যে কাজই করুন, সেখানে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকবেই। শিল্পচর্চা কিংবা সৃষ্টিশীল কাজ করে যাওয়ার বিয়ষটা সম্পূর্ণ নিজস্ব। সব সময় শিল্পের মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। তাই যখনই নিজস্ব ভাবনা থেকে ভালো কিছু করার সুযোগ আসবে, তখন সেখান থেকে পিছিয়ে আসব না। সিনেমা নিয়েও একই ভাবনা আমার। তাই প্রথম ছবি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও নির্মাণ থেকে সরে যাব না।

সিনেমার ব্যস্ততার জন্য কি মঞ্চে বা টিভিতে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না?

টিভি নাটকে অনেক দিন ধরে অভিনয় করছি না। করব না– এ কথাও জোর দিয়ে বলছি না, কারণ ভালো কাজের সুযোগ পেলে হয়তো আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। তবে মঞ্চের বিষয়ে ভাবনাটা আলাদা। শত ব্যস্ততার মাঝেও মঞ্চের জন্য আলাদা করে সময় রাখি। দল কোনো দায়িত্ব দিলে তা ঠিকঠাকভাবে করার চেষ্টা করি। এ মুহূর্তে দল বাড়তি কোনো দায়িত্ব দেয়নি, তাই সিনেমার প্রচারণা ও অন্যান্য কাজে সময় দিচ্ছি।

আরও পড়ুন

×