ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্কলাস্টিকার ‘এসটিএম হল’ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর

‘হীরক রাজার দেশে’র অনবদ্য পরিবেশনা

‘হীরক রাজার দেশে’র অনবদ্য পরিবেশনা
×

স্কলাসটিকার উত্তরা শাখায় ‘হীরক রাজার দেশে’ মঞ্চস্থ

মীর সামী

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪৭ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৫৫

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত স্কলাসটিকা স্কুলের এসটিএম হল পা রাখল প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনটি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিল্প, সংগীত, নৃত্য ও নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করতে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজন করা হয় দুই দিনের বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল কিংবদন্তি নির্মাতা ও লেখক সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি ‘হীরক রাজার দেশে’-এর মঞ্চনাট্য রূপ।

রঙিন আলো, সুর আর অভিনয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল সত্যজিৎ রায়ের অমর ব্যঙ্গকাহিনি। সন্ধ্যা নামতেই এসটিএম হল ভরে উঠেছিল উৎসবের আবহে। দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী অতিথিরা।মঞ্চে আলো জ্বলে উঠতেই যেন এক টুকরো রূপকথার রাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল; গুপি-বাঘার জগৎ, হীরক রাজ্যের অলংকৃত দরবার, আর মগজ ধোলাইয়ের ঘর একে একে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

‘হীরক রাজার দেশে’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। তাঁর দক্ষ নির্দেশনায় খুদে অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় দর্শকদের বিমোহিত করে।

এসটিএম হল শুধু একটি মঞ্চ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। গত ২৫ বছরে অসংখ্য তরুণ এখানে দাঁড়িয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে–আজকের এই মঞ্চায়ন সেই ধারারই এক গর্বিত পরিণতি। এই মঞ্চে থেকেই অনেক শিক্ষার্থী জীবনের প্রথম আলোয় পা রেখেছে, প্রথম করতালির স্পর্শ পেয়েছে। এই হল আমাদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা আর মানবিকতার মিলনস্থল। আমরা বিশ্বাস করি, এসটিএম হলের আগামী পথচলাও এমনই হবে; যেখানে প্রতিটি প্রযোজনা শুধু বিনোদন নয়, হয়ে উঠবে শিক্ষার, অনুপ্রেরণার ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রতীক। 
-শৈলী পারমিতা নীলপদ্ম, প্রেসিডেন্ট, স্কলাসটিকা ড্রামা ক্লাব।

মঞ্চায়নের সংগীত, পোশাক, আলোকসজ্জা এবং নৃত্যাভিনয় একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল। বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন হীরক রাজা চরিত্রে অভিনয় করা দুই শিক্ষার্থী নাফিজা ওয়াযিহা আহমেদ ও আরিয়াদ রহমান। তাদের আত্মবিশ্বাস, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও দৃষ্টির অভিনয় যেন অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমকক্ষ। গুপি-বাঘা চরিত্রে অভিনয় করা ছয় শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত সংলাপ, মজার কৌতুক আর ছন্দময় গতিবিধি পুরো নাটকটিকে দিয়েছিল হাস্যরস ও বিনোদনের ছোঁয়া। স্কুলের খুদে অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়ে পরিপক্বতা ও সংবেদনশীলতা দেখে দর্শকরা বিস্মিত হয়েছিলেন। উদয়ন চরিত্রে অভিনয় করা শিক্ষার্থী তার সংলাপে এনে দিয়েছিল তীক্ষ্ণ যুক্তি ও মানবিক বার্তা।

শিশু অভিনেতারা, যারা রাজসভার প্রজা, পেয়াদা বা শ্রমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছিল, তারাও পুরো নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছিল। দর্শকরা প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেরই প্রশংসা করতালি দিয়ে করেন। ‘হীরক রাজার দেশে’ নাটকটি উৎসর্গ করা হয় স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মিসেস ইয়াসমিন মুরশেদ-এর স্মৃতির প্রতি। প্রথম দিনের প্রদর্শনীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী গোলাম ফরিদা ছন্দা, নাজিয়া হক অর্ষা, অভিনেতা নূর ইমরান মিঠু, নির্মাতা সতীর্থ রহমান রুবেলসহ আরও অনেকে।

দ্বিতীয় দিনের প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত, দিলারা জামান এবং আফজাল হোসেন। অভিনেতা আবুল হায়াত প্রদর্শনী শেষে বলেন, ‘আমি মুগ্ধ, অভিভূত। নাটকটি দেখার সময় মনে মনে ভুল ধরার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাদের একটি ভুলও পাইনি।’

দিলারা জামান বলেন, ‘এই সুন্দর সন্ধ্যাটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা পাওয়া।’ আফজাল হোসেন বলেন, ‘শিশুদের এমন সুনিপুণ অভিনয় দেখে অভিভূত। এই বয়সে এমন বোধ আর সংলাপের গভীরতা সহজে দেখা যায় না। স্কলাস্টিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’

স্কুলের বর্তমান অধ্যক্ষ মিস ফারাহ সাফিয়া আহমেদ বলেন, ‘স্কলাসটিকা বিশ্বাস করে, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। এই প্রযোজনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজ, আত্মবিশ্বাস ও কল্পনাশক্তির এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন

×