ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিনোদন অঙ্গনে কাজ করলে সাইবার বুলিং এড়ানো কঠিন: শ্যামল

বিনোদন অঙ্গনে কাজ করলে সাইবার বুলিং এড়ানো কঠিন: শ্যামল
×

শ্যামল মাওলা। ছবি: ফেসবুক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:৩২ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৪:০৪

শ্যামল মাওলা। অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘ফ্যাক্ট নাকি ফেইক’। ওয়েবের কাজেও ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। নতুন নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে এ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন

‘ফ্যাক্ট নাকি ফেইক’ নাটকটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
নাটকটি প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই বলেছেন, এ ধরনের কনটেন্ট এখনকার সময়ের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম নাটকটি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে এবং ভাবছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, গল্পটি শুধু বিনোদন নয়; বরং একটি সচেতনতামূলক বার্তা হিসেবে জায়গা করে নিতে পেরেছে। অনেকেই বার্তা দিচ্ছেন এমন কাজ আরও হওয়া উচিত।

নাটকটিতে কী তুলে ধরা হয়েছে? 
‘ফ্যাক্ট নাকি ফেইক’ মূলত একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ নাটক, যেখানে দেখানো হয়েছে ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য, গুজব, ফেক নিউজ, ট্রোলিং এবং অনলাইন হয়রানি কেমনভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিজীবন, সম্পর্ক এমনকি মানসিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে এক হই সকলে।’ নাটকের গল্পও ঠিক সেই বার্তার ওপর দাঁড়িয়ে। এখানে দেখানো হয়েছে একটি মিথ্যা পোস্ট, ভুয়া ছবি বা বানানো গল্প অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে কারও সম্মান, ক্যারিয়ার এমনকি জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষত নারীরা যখন নেতৃত্বে আসে বা নিজস্ব মত প্রকাশ করে তখন তারা কীভাবে অনলাইন বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়, তা খুব বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে নাটকে। শেষ পর্যন্ত নাটকটি একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় প্রযুক্তি মানবিকতার জন্য, কষ্ট বা ক্ষতির হাতিয়ার নয়। 

বাস্তবে আপনি কি কখনও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন?
সাইবার বুলিং এখন খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। আমি নিজেও সময় সময় এর শিকার হয়েছি। আসলে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করলে এটা এড়ানো খুব কঠিন। কেউ পছন্দ করবে, কেউ সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান বা অপপ্রচারে রূপ নেয়। বিশেষ করে নারীরা এই জায়গায় তুলনামূলক বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে, আর পুরুষরাও পুরোপুরি মুক্ত নয়। এখন ইতিবাচক দিক হলো শোবিজের অনেকেই এখন এই বিষয়ে সরব। সবাই যেভাবে প্রতিবাদ করছে, সচেতনতা তৈরি করছে তা খুবই প্রয়োজনীয়। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু কাউকেই অপমান, গুজব বা হয়রানির শিকার করা উচিত নয়। 

‘রেডমুন’ ওয়েব সিরিজের কাজ কতদূর?
সম্প্রতি ‘রেডমুন’-এর শুটিং শেষ করেছি। কাজটি নিয়ে আমার অনেক প্রত্যাশা আছে, কারণ এটি হরর, রোমান্টিক এবং ফ্যান্টাসির একটি সুন্দর মিশ্রণ, যা আমাদের ওয়েব কনটেন্টে খুব কম দেখা যায়। গল্প বা চরিত্র সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চায় দর্শকদের জন্য কিছুটা সাসপেন্স বজায় থাকুক। তাই আপাতত বলতে পারি এটি আমার করা কাজগুলোর মধ্যে চ্যালেঞ্জিং এবং ভিন্নধর্মী একটি প্রকল্প।

ওটিটি ও সিনেমায় ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নাটক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আপনি উল্টো পথে হাঁটছেন কেন?
আমার কাছে অভিনয়ই মূল বিষয় মাধ্যম নয়। ওয়েব, টিভি, থিয়েটার বা রেডিও যেখানেই অভিনয়ের সুযোগ পাই, চরিত্রটি যদি আমাকে টানে, আমি করতে চাই। ওটিটিতে কাজ করছি, আবার সময় মিললে নাটকেও অভিনয় করি। সম্প্রতি কয়েকটি একক নাটকে কাজ করেছি এবং ধারাবাহিকেও যুক্ত আছি। অভিনয় আমার পেশা, আবার আমার ভালোবাসাও। তাই কাজের প্ল্যাটফর্ম নয় চরিত্র, গল্প আর সৃষ্টিশীলতা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিচালনায় আসার পরিকল্পনা আছে?
পরিচালনা নিয়ে এখনই ভাবছি না। তবে ভবিষ্যতে হয়তো করা হবে। দীর্ঘদিন অভিনয় করতে করতে অনেক অভিজ্ঞতা জমেছে; সেগুলো ভবিষ্যতে পরিচালনার কাজে ব্যবহার করতে চাই। সময়, পরিকল্পনা এবং মানসিক প্রস্তুতি ঠিক হলে হয়তো একদিন পরিচালনায় আসব, তবে এখন পুরো মনোযোগ শুধু অভিনয়েই রাখতে চাই।

বর্তমান সময়ে দর্শকের রুচির পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন?
আমি বিষয়টিকে খুব ইতিবাচক মনে করি। দর্শক এখন বেশি সচেতন। তারা গল্প, অভিনয়, নির্মাণশৈলী সবকিছু বিচার করে দেখে। তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে, আর এই চাহিদাই আমাদের ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

কাজের বাইরে শ্যামল মাওলা কেমন?
কাজের বাইরে আমি বেশ শান্ত-স্বভাবের। খুব বেশি মিশুক নই; বরং চুপচাপ থাকতে ভালো লাগে। নিজের সময়, নিজের জায়গা এবং ব্যক্তিগত জীবনকে আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখি।

আরও পড়ুন

×