সাক্ষাৎকার
অবসরগুলোও কাজের মধ্যে চলে যায়
অভিনেত্রী তমা মির্জা। ছবি: এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:০৬ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:২৩
তমা মির্জা। তারকা অভিনেত্রী। ‘ফ্রাইডে’, ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘আমলনামা’ ও সর্বশেষ ‘দাগি’–কাজগুলোতে প্রতিটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তুমুল প্রশংসিত তিনি। সম্প্রতি ব্যাংকক ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। কথা হয় তাঁর সঙ্গে–
সম্প্রতি ব্যাংকক থেকে ফিরলেন। ভ্রমণটা কেমন ছিল?
খুবই সুন্দর। আমি আগেও কয়েকবার ব্যাংকক গেছি। এবারের ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল একেবারে নিজের জন্য সময় নেওয়া। এমন কিছু জায়গায় গেছি, যেখানে আগে যাওয়া হয়নি। হেরিটেজ স্পট, স্থানীয় আঞ্চলিক মার্কেট, নদীপথ–সব মিলিয়ে দারুণ আনন্দের। থাই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঘোরা–এটি ছিল একদম নতুন অভিজ্ঞতা আমার জন্য।
সেখানকার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবি দিয়েছেন ফেসবুকে...
হুম। নতুন পোশাক, নতুন কালচার–সবকিছু জানার মধ্যে সুন্দর একটা আনন্দ আছে। অভিনয়ের বাইরে আমি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি সবসময়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের লোকেশনে ছবি তোলা–এটি আমার কাছে এক ধরনের ভালো লাগার।
শুনলাম সেখানে মিস ইউনিভার্সের চূড়ান্ত আয়োজনেও উপস্থিত ছিলেন?
হ্যাঁ, এটি আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। ভ্রমণে গিয়েই জানতে পারি অনুষ্ঠানটা সেখানে হচ্ছে। তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। বিশাল আয়োজনে এত মানুষের ভিড়, তাদের এনার্জি–সবকিছু আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই আয়োজন আমার জন্য আরও বড় চমক ছিল আমাদের বন্ধু তানজিয়া জামান মিথিলার অনবদ্য পারফর্ম। বাংলাদেশের হয়ে দারুণ আলো ছড়িয়েছে সে।
এই যে ভ্রমণ করছেন, এটি কাজের ক্ষেত্রে কেমন এনার্জি দেয়?
অভিনয়ে কিন্তু শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক পরিশ্রম বেশি। চরিত্রে ঢোকা, বের হওয়া– সবকিছু মিলিয়ে মনটা ক্লান্ত হয়ে যায় কখনও কখনও। তাই আমি মনে করি, নিজের জন্য সময় নেওয়া অভিনেত্রীর জন্য খুবই প্রয়োজন। ভ্রমণ আমাকে রিফ্রেশ করে, আবার কাজে ফিরতে অনুপ্রাণিত করে।
এদিকে হুট করে আপনার ১১ বছর আগে শুটিং করা একটি ছবি মুক্তি পেল...
হ্যাঁ, ১১ বছর আগে শুটিং শেষ করেছি। সিনেমাটিতে শুভ ভাইয়ের বিপরীতে নায়িকা ছিলাম আমি। ওই সময় অনুযায়ী ছবিটি সময়োপযোগী ছিল। অনেক টাকা বিনিয়োগ করে শুটিং করা হয়েছিল। আমরাও সেভাবে কাজ করেছি। এরপর দীর্ঘ সময়ে শুভ ভাই ও আমি– অনেকটাই বদলে গেছি। আমাদের অভিনয়, চিন্তাভাবনা ও আউটলুক–সবকিছুতে পরিবর্তনও এসেছে। এই সময়ে এসে দর্শকরা আমাদের সমসাময়িক কাজের সঙ্গে তুলনা করলে এটি ছবির জন্য ক্ষতি। ছবির ক্ষতি মানে তো প্রযোজকও ক্ষতিগ্রস্ত। আমার কেন জানি মনে হয়, একটি ছবির শুটিং শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে তা মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত। না হলে সেই ছবির মেরিট নষ্ট হয়। এতে শিল্পীরও সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মানলাম, একজন প্রযোজক অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এত আগের একটি সিনেমা মুক্তি দেওয়াতে দর্শকরা যেমন হতাশ, আমরাও তেমনি হতাশ।
নতুন সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের কাজের খবর কী?
এখনই কিছু বলতে চাই না। একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। কয়েকটা স্ক্রিপ্ট হাতে আছে। কোনটার শুটিং আগে শুরু করব, এটি এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। তবে আমি মান, গল্প আর চরিত্র–এই তিনটিতে আপস করি না। তাই সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।
এখন সময় কীভাবে কাটাচ্ছেন...
শুটিং না করা মানে কিন্তু এটা নয় যে অবসর কাটাচ্ছি। নতুন কাজের পরিকল্পনা, কাজ নিয়ে মিটিং–এসব তো নিয়মিতই করতে হয়। এসবের পাশাপাশি শুটিং না থাকলে গান শুনি, বই পড়ি, সিনেমা দেখি, রান্না করি। রান্নায় আমার নতুন রেসিপি ট্রাই করতে ভালো লাগে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে একা থাকা। এক কাপ চা হাতে ঘরের মধ্যে হাঁটি, চিন্তা করি–জীবনে কোথায় ভুল করেছি, কীভাবে আরও ভালো করা যায়। এই একাকিত্ব আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
আপনি অঞ্জন দত্তের সিরিজ ‘দুই বন্ধু’তে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে ওপার বাংলায় কাজের সম্ভাবনা কেমন?
‘দুই বন্ধু’ আমার কাছে খুবই ভালো অভিজ্ঞতা। কাজের ধরন, ডিসিপ্লিন–সব প্রশংসনীয়। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র পেলে নিশ্চয়ই আবার করব।
- বিষয় :
- তমা মির্জা
- অভিনেত্রী
- সিনেমা
