নেপালের মঞ্চে মামুনুর রশীদের ‘আয়ো গোর্খালি’
ছবি-সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪০
মঞ্চের ভাষা কখনও শুধু একটি দেশের ভাষায় আটকে থাকে না। ইতিহাস, মানুষের লড়াই, বঞ্চনা আর আত্মত্যাগের গল্প পেরিয়ে যায় ভৌগোলিক সীমানা। সেই ভাবনাকেই সঙ্গে নিয়ে এবার নেপালের মঞ্চে নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন দেশের বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ। প্রথমবারের মতো নেপালি একটি নাট্যদলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। নেপালি ও ইংরেজি ভাষার প্রযোজনাটির নাম ‘আয়ো গোর্খালি’।
সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সর্বনাম থিয়েটার মিলনায়তনে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার একই মঞ্চে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয়। জানা গেছে, নেপালি দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন প্রযোজনাটি।
‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে নেপালের গোর্খা যোদ্ধাদের ইতিহাস। সাহস ও বীরত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই যোদ্ধাদের জীবনকে নাটকে দেখা হয়েছে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে অসামান্য সাহস ও আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছিলেন গোর্খারা। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তাদের অবদানের বিপরীতে পরবর্তী সময়ে অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে, নাটকের আখ্যান মূলত সেই দ্বন্দ্বকে ঘিরেই।
বীরত্বের এই প্রচলিত গল্পের আড়ালে থাকা মানুষের গল্পটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি উঠে এসেছে গোর্খা যোদ্ধাদের প্রতি বৈষম্য, অধিকারবঞ্চনা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা। সরাসরি ইতিহাস পাঠের বদলে রূপক ও নাট্যভাষার মাধ্যমে সেই সময় ও অভিজ্ঞতাকে মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকটি লিখেছেন হংকংয়ের নাট্যকার মক চিউ ইয়ু। তাঁর সঙ্গে মামুনুর রশীদের সম্পর্ক প্রায় চার দশকের।
গোর্খাদের জীবন ও ইতিহাস নিয়ে একটি মঞ্চনাটক নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের। প্রায় দেড় দশক ধরে বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন নাট্যকার। বিভিন্ন সময়ে মামুনুর রশীদের সঙ্গে এ নিয়ে হয়েছে বিস্তর আলোচনা। চলতি বছর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হওয়ার পর নেপালের সর্বনাম থিয়েটার কর্তৃপক্ষ মামুনুর রশীদকে নির্দেশনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এরপর শুরু হয় ভিন্ন এক কর্মযজ্ঞ।
নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীদের নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে চলে মহড়া ও প্রস্তুতি। ভিন্ন দেশের শিল্পীদের অভিনয়শৈলী, ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি অভিন্ন মঞ্চভাষা তৈরি করা ছিল এই প্রযোজনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
মামুনুর রশীদের দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার অভিজ্ঞতা সেখানে নতুন এক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে। প্রযোজনাটিতে অভিনয় করেছেন আয়ারল্যান্ডের মাইক, হংকংয়ের কারমেন ও জেসিকা এবং নেপালের আরুশ ম্যাগার, হিরা হামাল ও বিভুসা। বহুজাতিক এই শিল্পী দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্যও শিক্ষণীয় বলে মনে করছেন মামুনুর রশীদ।
আজ নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়নের আগে কাঠমান্ডু থেকে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, এর আগে নেপালের মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে কাজ করলেও নেপালি ভাষায় কোনো নাটক নির্দেশনার অভিজ্ঞতা তার এবারই প্রথম। প্রায় এক মাসের মহড়া পর্বে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। তাঁর কাছে পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল সৃজনশীলভাবে সমৃদ্ধ এক অভিজ্ঞতা।
নাটকটি নিয়ে তিনি বলেন ‘আয়ো গোর্খালি’ শুধু নেপালের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে মঞ্চে তুলে ধরছে না; বরং তিন দেশের শিল্পীদের সৃজনশীল সহযোগিতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।’
- বিষয় :
- মামুনুর রশীদ