ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গানই হয়ে উঠেছে নেশা ও পেশা: বখতিয়ার

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গানই হয়ে উঠেছে নেশা ও পেশা: বখতিয়ার
×

বখতিয়ার হোসেন

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ 

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৪

বখতিয়ার হোসেন। গায়ক, সুরকার, সংগীতায়োজক ও চিত্রশিল্পী। আজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত ‘অমিত্রাক্ষরের সূচনাস্বর’ কনসার্টে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি। এই আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ 

বুয়েটের ‘অমিত্রাক্ষরের সূচনাস্বর’ কনসার্টের আয়োজন নিয়ে জানতে চাই। আজকের এই আয়োজনে নতুন কিছু শোনানোর পরিকল্পনা আছে?
ইচ্ছা আছে, এই সময়ে নতুন যে গানগুলো তৈরি করেছি সেগুলো দর্শক-শ্রোতাকে শোনানোর। সে অনুযায়ী ‘বখতিয়ার– দ্য আর্টম্যান’-এর পরিবেশনার একটি ছোট তালিকাও তৈরি করা আছে। তবে সেই তালিকা বদলে যেতেও পারে। কারণ সবকিছুর আগে দেখতে হবে, ‘অমিত্রাক্ষরের সূচনাস্বর’ কনসার্টের ধরন অনুযায়ী কোন গানগুলো মানানসই। দর্শক-শ্রোতার ভালো লাগা-মন্দ লাগার বিষয়টি প্রাধান্য না দিলেই নয়। 

‘বখতিয়ার– দ্য আর্টম্যান’ আপনার নতুন ব্যান্ড নাকি এটি শোয়ের জন্য তৈরি করা মিউজিশিয়ানদের একটি দল?
না, নতুন কোনো ব্যান্ড তো তৈরি করিনি। স্বাধীনভাবে গান করে যাচ্ছি। সমস্যা হলো, নিজে এককভাবে গান তৈরি করতে পারলেও শো করা তো সম্ভব নয়। সেজন্য কয়েকজন মিউজিশিয়ানকে বেছে নিয়ে ‘বখতিয়ার- দ্য আর্টম্যান’ নামে মঞ্চে উঠছি।   

এখন থেকে কি স্বাধীনভাবেই গান করে যেতে চান? 
গানের ভুবনে যখনই পা রেখেছি, তখন থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। গান গাওয়া ছাড়াও গীতিকথা লেখা, সুর ও সংগীতায়োজন করা– সবকিছুতেই আমি ছিলাম স্বাধীনচেতা। খ্যাতির মোহ পেয়ে বসেনি বলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার সাহস পেয়েছি। কিন্তু মাঝের সময়টায় এই স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিলাম; যা এই সময়ে এসে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। 

আপনি কি বলতে চান ‘বে অব বেঙ্গল’ ব্যান্ডে থাকাকালে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি?
বে অব বেঙ্গল নিয়ে আমি এমন কোনো অভিযোগ আনতে চাই না। এই ব্যান্ডের বেশির ভাগ গানই তো আমার লেখা ও সুর করা। আর সেই কাজে কেউ বাধাও দেয়নি। তবে এ কথা সত্যি যে, ব্যান্ডের নিজস্বতা হারিয়ে যেতে বসেছিল। সংগীত সৃষ্টিতে আমার যে দর্শন, যা কিছু চাওয়া– তার অনেক কিছু পূরণ হচ্ছিল না। তারপরও বে অব বেঙ্গলে গান করে যাচ্ছিলাম। কখনও কখনও মনে হতো, গান নিয়ে মিথ্যা অভিনয় করছি। আমি যা, তা অনেকটাই অপ্রকাশিত; যা দিচ্ছি, সেটিও অনেকের নাম জুড়ে দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। অথচ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গানই হয়ে উঠেছে নেশা ও পেশা। যেজন্য আর কখনও ব্যান্ড না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বে অব বেঙ্গল ছেড়ে স্বাধীনভাবে সৃষ্টিতে মেতে ওঠা।  

যদি আর্টসেলের সদস্য হওয়ার প্রস্তাব পান, তখনও কি আপনার সিদ্ধান্ত বদলাবে না?
এমন কিছু ভাবনাতেও আসেনি। আমি শুধু জানি, লিংকন ভাই ফিরে এলে, তাঁর কাছে আর্টসেলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। লিংকন ভাই বিদেশে। যেজন্য তাঁর জায়গায় অতিথি শিল্পী হিসেবে আমাকে আর্টসেল ব্যান্ডে পারফর্ম করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার কাছে যেমন আর কিছু চাওয়া হয়নি, তেমনি আমিও আর্টসেলের কাছে বেশি কিছু আশা করি না। 

 সংগীত নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা কী? 
আমি কোনো লক্ষ্য পূরণের জন্য গান গেয়ে যাচ্ছি– বিষয়টা এমন নয়। এখন যদি আমি ২২/২৩ বছরের তরুণ হতাম, তাহলে ধরে নিতাম এটাই  ক্যারিয়ারের গোল্ডেন। গানের বিষয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতেও দ্বিধা করতাম না। বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়তাম গানের মঞ্চে। কিন্তু সেই বয়স তো অনেক আগেই পার করে এসেছি। তাই এখন শুধু এটুকুই চাওয়া– ধারাবাহিক ভাবে যেন কাজ করে যেতে পারি। 

এবার চিত্রশিল্পী বখতিয়ার হোসেনের খবর জানতে চাই। নতুন কী আঁকছেন?
ক্যানভাসে রঙ নিয়ে খেলছি; দেখি শেষমেষ কী দাঁড়ায়। এটি এক ধরনের নেশা। তাই আগে ভাগে বলা কঠিন রঙতুলির আঁচড়ে ক্যানভাবে কী উঠে আসবে। 

আপনার পেইন্টিং দেখে মনে হয়, আপনি অকেটা প্রকৃতিঘেঁষা... 
আসলে তাই, আমি ভীষণ প্রকৃতিপ্রেমী। তাই পেইন্টিংয়ের জন্য নানা প্রান্তে ছুটে বেড়াই। অবশ্য  বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু দিন বাইরে গিয়ে ছবি আঁকা হয়ে ওঠেনি। তবে যখনই সময় অনুকূল মনে হবে, ছবি আঁকার জন্য ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পরবো।

আপনার ছবিগুলো নিয়ে কোনো একক প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে? 
একক প্রদর্শনীর ইচ্ছা আছে। কারণ ধীরে ধীরে আামর পেইন্টিংয়ের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেগুলো ছবিপ্রেমীদের দেখানোর খুব ইচ্ছা। তবে সেটি কবে নাগাদ সম্ভব হবে– তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

আরও পড়ুন

×