ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাক্ষাৎকার

মহড়াকক্ষ থেকে ‘আন্ধার জয়’-এর নিজস্ব মঞ্চভাষা তৈরি হয়েছে: হৃদি

মহড়াকক্ষ থেকে ‘আন্ধার জয়’-এর নিজস্ব মঞ্চভাষা তৈরি হয়েছে: হৃদি
×
×

হৃদি হক

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২১ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪৪

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউয়ের জর্জটাউন থিয়েটার হলে আগামীকাল ৪ অক্টোবর মঞ্চায়ন হবে নাটক ‘দ্য রাইজিং অব দ্য মুন-আন্ধার জয়’। আইরিশ নাট্যকার লেডি গ্রেগরির ধ্রুপদি একাঙ্কিকার মূল ভাবনা অবলম্বনে নাটকটির পুনর্লিখন ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকার, অভিনেত্রী ও নির্দেশক হৃদি হক। নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।

কোন ভাবনা থেকে ‘আন্ধার জয়’ নির্মাণ করেছেন?
‘দ্য রাইজিং অব দ্য মুন’-এর কাহিনির চেয়ে এর অন্তর্নিহিত ভাবনা আমাকে বেশি টেনেছে। একদিকে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে বিবেকের তাড়না–এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ভেতরের সুপ্ত আত্মপরিচয় জেগে ওঠার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে। তাই সংলাপের পাশাপাশি সংগীত, শরীরী অভিব্যক্তি, কোরিওগ্রাফি, নীরবতা ও দৃশ্যবিন্যাসকে গল্প বলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছি। আমার কাছে ‘আন্ধার জয়’ শুধু একটি নাটকের নির্মাণ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ-অভিজ্ঞতা তৈরির চেষ্টা। থিয়েটারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিন্ন একটি সাংস্কৃতিক পরিসরে কাজের এই সুযোগ আমার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। 

নাটকটির পথপরিক্রমা নিয়ে বলুন।
টেক্সাসে প্রথম নির্দেশনা দিচ্ছি। আমার ক্ষেত্রে চিত্রনাট্য লেখার সময় থেকে প্রযোজনার প্রথম মহড়া শুরু হয়ে যায়। মূল ভাবনা, চরিত্রের সম্পর্ক, নাটকীয় ছন্দ ও দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে বুঝে তার মঞ্চভাষা খুঁজে নেওয়া নির্দেশনা-প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন নাট্যকর্মীকে নিয়ে কাজ করায় সবাইকে একটি সমবেত দলের মধ্যে নিয়ে আসাও ছিল বড় প্রক্রিয়া। ছয় মাসের ওয়ার্কশপ করিয়েছি। চেয়েছি সংগীত, কোরিওগ্রাফি, আলো, শরীরী ভাষা ও অভিনয় আলাদা উপাদান না হয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করুক। একটি অঙ্গভঙ্গি যেন সংলাপের কাজ করে, একটি বিরতি যেন উত্তেজনা তৈরি করে, আবার সংগীত যেন দৃশ্যের আবেগের ছন্দ এগিয়ে নেয়। এভাবে মহড়াকক্ষ থেকে ‘আন্ধার জয়’-এর নিজস্ব মঞ্চভাষা তৈরি হয়েছে।

নাটকটি নিয়ে কী প্রত্যাশা করছেন?
এই কাজের মধ্য দিয়ে টেক্সাসের থিয়েটার সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের বাংলা থিয়েটারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প-সংযোগ, সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথ তৈরি হবে–এটাই প্রত্যাশা। অস্টিন, ডালাস, হিউস্টন, সান অ্যান্টোনিওসহ বিভিন্ন শহরের নাট্যকর্মী ও দর্শকের আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। এই আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে থিয়েটার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, রূপ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগামীর কর্মপরিকল্পনা কী?
আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চাই। থিয়েটার ও চলচ্চিত্র–দুই মাধ্যমেই নতুন গল্প, নতুন রূপ এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের শিল্পীদের সঙ্গে কাজের পরিকল্পনা আছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ প্রযোজনা, কর্মশালা ও সৃজনশীল বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করে তাদের ভাবনা, নতুন প্রযুক্তি ও সমকালীন গল্প বলার সঙ্গে থিয়েটার-চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতার অর্থবহ সংলাপ তৈরি করার ইচ্ছা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় নিজেকে আটকে রাখতে চাই না; কাজের মাধ্যমে নতুন পরিসর তৈরি করে বাংলা শিল্পের নিজস্ব কণ্ঠকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া আমার লক্ষ্য।

নতুন সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কিছু ভাবছেন?
কিছু গল্পভাবনা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশে ফিরেই নতুন সিনেমার চিত্রনাট্যের কাজে হাত দেব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব থেকে ‘১৯৭১: সেইসব দিন’ সিনেমাটির প্রদর্শনীর প্রস্তাব পাচ্ছি। চার মাস আগে অস্টিন শহরে এর শো হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু জায়গায় এটি প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ আছে।

আরও পড়ুন

×